সন্তানরা পাশে নেই? চিন্তা নেই, এবার ‘ছেলে’ হয়ে দরজায় কড়া নাড়বে পুলিশ! বারাসাতের এই উদ্যোগ ভাইরাল

রুপোলি পর্দার সেই করুণ কাহিনী কি মনে আছে? যেখানে নিজের চার সন্তান থাকা সত্ত্বেও শেষ বয়সে অবহেলা আর লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও হেমা মালিনী। ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের সেই ব্লকবাস্টার ছবি ‘বাগবান’ (Baghban)-এর গল্প এবার বাস্তব রূপ নিচ্ছে বাংলার মাটিতে। বারাসাত জেলা পুলিশের এক অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ এবার অসহায় প্রবীণদের একাকীত্ব দূর করতে ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মধ্যমগ্রাম পৌর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘ভগবান’ (Bhagban) প্রকল্প।

বারাসাত জেলা পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখারিয়ার মস্তিস্কপ্রসূত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, সেই সমস্ত প্রবীণদের পাশে থাকা যাঁরা ঘরে একা থাকেন। যাদের সন্তান নেই কিংবা সন্তানরা কর্মসূত্রে বিদেশে বা ভিনরাজ্যে থাকেন, সেই ৬০-৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে প্রশাসন। শুধু পুলিশি পাহারা নয়, রাত-বিরেতে অসুস্থ হয়ে পড়া, দোকান থেকে ওষুধ এনে দেওয়া, দৈনন্দিন সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেওয়া থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে ত্রাতা হয়ে হাজির হবে পুলিশ বাহিনী। বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত থেকে প্রবীণদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ সচেতনতা মূলক পাঠও দেওয়া হবে এই প্রকল্পের আওতায়।

মধ্যমগ্রাম সুভাষ ময়দানে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ছাড়াও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রামের পৌরপ্রধান নিমাই ঘোষ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। আপাতত মধ্যমগ্রাম পৌরসভা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা চালু হলেও, খুব শীঘ্রই অশোকনগর, হাবরা সহ গোটা বারাসাত জেলা জুড়ে এই ‘ভগবান’ প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশের এই মানবিক মুখ দেখে আপ্লুত এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা। প্রশাসন জানিয়েছে, বিশেষ ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করলেই মিলবে এই পরিষেবা। বার্ধক্যের নিঃশব্দ কান্না মুছতে জেলা পুলিশের এই লড়াই এখন টক অফ দ্য টাউন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy