ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বিপ্লবের পীঠস্থান মেদিনীপুর। যে মাটি একসময় ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই মাটিতেই এখন উৎসবের জোয়ার। সারা বছর মেদিনীপুরবাসী অপেক্ষা করে থাকেন শীতের এই কয়েকটি দিনের জন্য। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেদিনীপুরের প্রাণকেন্দ্র কেরানীতলার চার্চ স্কুলের মাঠে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘চার্চের মেলা’। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন অর্থাৎ বড়দিন থেকে শুরু হওয়া এই মেলা এখন আক্ষরিক অর্থেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
শহর মেদিনীপুরে সারা বছর নানা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে, কিন্তু চার্চের মেলার আকর্ষণ একেবারেই আলাদা। ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলে নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত। বিকেল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমতে শুরু করে, যা গভীর রাত পর্যন্ত বজায় থাকে। ছোটদের জন্য নাগরদোলনা ও নানা খেলার রাইড থেকে শুরু করে বড়দের কেনাকাটার জন্য বসেছে শতাধিক মনোহারী স্টল। খাবারের দোকানগুলোতেও রসনাতৃপ্তির জন্য লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো।
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত গির্জা। গির্জার শান্ত পরিবেশ আর মেলার কোলাহল—এই দুইয়ের মিশেল এক অদ্ভুত ভালো লাগার সৃষ্টি করে। শুধু মেদিনীপুর শহর নয়, পার্শ্ববর্তী ঝাড়গ্রাম জেলা এবং জঙ্গলমহলের দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকেও হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন। আয়োজকদের দাবি, মেলা চলাকালীন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই চত্বরে। বর্ষবরণের আনন্দ ভাগ করে নিতে মেদিনীপুরের এই চার্চের মেলাই এখন দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সেরা গন্তব্য।