২০২৫-এর বিদায়বেলা আর ২০২৬-এর আগমন— দুইয়ের সন্ধিক্ষণে শীতের বিধ্বংসী স্পেলে কাঁপছে কলকাতা। কুয়াশার চাদর সরতেই হুড়মুড়িয়ে নামল পারদ। বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছে গেল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এটি কেবল এই মরসুমের শীতলতম দিনই নয়, গত ৭ বছরে ডিসেম্বরের শীতলতম দিন হিসেবেও রেকর্ড গড়ল।
বিগত ১০ বছরের খতিয়ান বলছে, ২০১৬ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৭ ডিগ্রি, ২০১৮ সালে ১০.৬ ডিগ্রি এবং ২০১৯ সালে ছিল ১১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু ২০২৫-এর এই ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস গত কয়েক বছরের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে মহানগরী সাক্ষী থাকল গত দুই দশকের ‘শীতলতম বর্ষশেষ’-এর। এর আগে ২০০৭ সালে ৩১ ডিসেম্বরের পারদ নেমেছিল ১১.৪ ডিগ্রিতে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে যেখানে বর্ষশেষের রাতে তাপমাত্রা ছিল ১৭.৩ ডিগ্রি, সেখানে এবার তা একধাক্কায় অনেকটা নিচে।
তবে হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, হাড়কাঁপানো এই ঠান্ডা এখনই আরও বাড়বে এমনটা নয়। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী ৩ দিনে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। অর্থাৎ বর্ষবরণের উৎসবে ঠান্ডার দাপট সামান্য কমলেও ৫ জানুয়ারির পর ফের স্বমেজাজে ফিরবে শীত। আপাতত কুয়াশা আর কনকনে উত্তুরে হাওয়ায় জবুথবু শহরবাসী মেতে উঠেছেন উৎসবে।