রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফেরার তাড়া আর একটি ভুল সিদ্ধান্ত— এক তরুণীর জীবনে নেমে এল চরম নারকীয়তা। গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডে চলন্ত ভ্যানের ভিতর এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল দুই যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই নির্যাতিতা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণীর সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর মুখে ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। পারিবারিক মনমালিন্যের জেরে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়েছিলেন ওই তরুণী। বোনকে জানিয়েছিলেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবেন। কিন্তু ফিরতে দেরি হয়ে যাওয়ায় কোনও গণপরিবহন না পেয়ে একটি ভ্যানে লিফট নেন তিনি। ভ্যানে আগে থেকেই দুই যুবক সওয়ার ছিল। অভিযোগ, গন্তব্যে না গিয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ও জনমানবহীন গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের দিকে ভ্যানটি ঘুরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা।
পুলিশি সূত্রে খবর, হনুমান মন্দিরের কাছে নির্জন এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ভ্যানের ভিতর আটকে রেখে ওই তরুণীর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় দুই পাষণ্ড। কনকনে ঠান্ডায় রাস্তা ফাঁকা থাকায় কোনও সাহায্য মেলেনি। এরপর ভোর রাত ৩টে নাগাদ এসজিএম নগর এলাকার রাজা চকের কাছে চলন্ত ভ্যান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
কোনওক্রমে ফোন করে পরিবারকে খবর দিলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতয়ালি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ফরিদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইতিমধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে জেরা শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।