ভোটার তালিকা সংশোধন তথা এসআইআর (SIR) শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে চরম অব্যবস্থা ও হয়রানির ছবি সামনে এসেছিল, তাতে শেষমেশ হস্তক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ, বিশেষভাবে সক্ষম এবং গর্ভবতী ভোটারদের আর শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে না। তাঁদের শুনানি হবে খোদ বাড়িতেই।
অমানবিকতার চরম সীমায় শুনানি পর্ব! শুনানি শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মর্মান্তিক সব চিত্র সামনে আসছিল। কোথাও দেখা গিয়েছে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কোথাও আবার গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে পাঁজাকোলা করে বা হুইলচেয়ারে শুনানি কেন্দ্রে আনতে হয়েছে। এমনকি প্রসবের দিনেও গর্ভবতী মহিলাকে নথিপত্র হাতে হাজির হতে দেখা গিয়েছে। কমিশনের মৌখিক নির্দেশ থাকলেও কোনো লিখিত বিজ্ঞপ্তি না থাকায় নিচুতলার আধিকারিকরা বয়স্কদেরও রেয়াত করছিলেন না বলে অভিযোগ।
শাসকদলের ক্ষোভ ও জনরোষের মুখে কমিশন এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মগরাহাটে ভোটারদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সি মুরুগানকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে বুঝে তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করল কমিশন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ইআরও (ERO), এআরও (ARO) এবং বিএলও-দের (BLO) অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি কারও নামে ইতিমধ্যেই নোটিস চলে গিয়ে থাকে, তবে তাঁকে ফোনে জানিয়ে দিতে হবে যে কেন্দ্রে আসার প্রয়োজন নেই।
বিএলও-দের জন্য নয়া ‘রোস্টার’ নতুন বছর থেকে বিএলও-দের কাজের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬, ৭ এবং ৮ নম্বর ফর্ম নিয়ে সপ্তাহের কাজের দিনে অন্তত তিনদিন দু’ঘণ্টা করে নিজেদের বুথে বসতে হবে তাঁদের। এছাড়া ছুটির দিনেও অন্তত চার ঘণ্টা করে বুথে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং জালিয়াতি রুখতে কমিশন এখন কোমর বেঁধে নামলেও, বিএলও-দের এই বাড়তি ডিউটি নিয়ে নিচুতলায় ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।