২০২৫-এর বিদায়বেলায় শীতের ঝোড়ো ইনিংসে কার্যত যবুথবু তিলোত্তমা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭.২ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি। অর্থাৎ, দিনের ও রাতের তাপমাত্রার ফারাক মাত্র ৪.৭ ডিগ্রিতে নেমে আসায় হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে শহরজুড়ে। সারাদিন রোদের দেখা মেলেনি, বরং কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর আকাশই ছিল শহরবাসীর সঙ্গী।
জেলার হালহকিকত: কলকাতার চেয়েও জেলাগুলির অবস্থা আরও করুণ। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ নেমেছে ১০ ডিগ্রির নিচে। বাঁকুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বর্ধমান, আসানসোল, পুরুলিয়া এবং শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। দক্ষিণবঙ্গের দিঘা থেকে কাঁথি—সর্বত্রই সোয়েটার-লেপ-কম্বলের দাপট। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙে তাপমাত্রা ৫.৪ ডিগ্রিতে নামায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
বর্ষবরণ ও তুষারপাতের পূর্বাভাস: ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি নতুন বছরের শুরুতে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও সকালের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নামতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শীতপ্রেমীদের জন্য সবথেকে বড় খবর হল, বর্ষবরণের রাতে সান্দাকফু এবং চটকপুরের মতো উঁচু পার্বত্য এলাকায় হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিমেও বরফ পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
কবে কমবে এই দাপট? আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিন এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বজায় থাকবে। তবে ৩ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা চড়তে পারে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশের কারণে উত্তুরে হাওয়া বাধা পাবে, ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। আপাতত বর্ষবরণের রাতে জাঁকিয়ে শীত উপভোগ করতে তৈরি গোটা বাংলা।