“ইউনূস ন্যায়বিচার করবেন!”— উত্তাল বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিনহা, তুঙ্গে বিতর্ক

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ফের ঘনিয়ে এসেছে অশান্তির কালো মেঘ। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে ওপার বাংলায় নতুন করে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তাণ্ডব। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশ যখন তাঁর কুশপুতুল পোড়াচ্ছে, ঠিক তখনই আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা তাঁর ওপর আস্থা প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।

সম্প্রতি আসানসোল পোলো গ্রাউন্ডে আয়োজিত জেলা বইমেলায় যোগ দিতে এসে শত্রুঘ্ন সিনহা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “মহম্মদ ইউনূস একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মতো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, তিনি নিশ্চয়ই ন্যায়বিচারের পথে হাঁটবেন এবং বাংলাদেশের মানুষ সুবিচার পাবেন।” যদিও আন্তর্জাতিক বিষয় হওয়ায় প্রথমে তিনি মন্তব্য করতে ইতস্ততবোধ করেছিলেন, কিন্তু পরে দুই বাংলার আত্মিক টানের কথা উল্লেখ করেন।

সাংসদ আরও বলেন, “আমাদের ভাষা এক, সংস্কৃতি এক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম দুই দেশকে একই সুতোয় গেঁথে রেখেছেন। তাই বাংলাদেশে কোনো দোলাচল বা অশান্তি দেখলে আমাদের ব্যথিত হওয়া স্বাভাবিক।” তবে এর পাশাপাশি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক সংখ্যালঘু যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে ওপারে যেমন আগুন জ্বলছে, এপারেও তেমনই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এমনকি ‘ছায়ানট’-এর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং একাধিক সংবাদপত্রের অফিসেও হামলা চালানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এই চরম অস্থিতিশীল পরিবেশে ড. ইউনূসের ‘শান্তি’ ফেরানোর প্রতিশ্রুতির ওপর শত্রুঘ্ন সিনহার এই অগাধ ভরসা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy