‘ইসলাম অবমাননার অভিযোগ মিথ্যা’,-ময়মনসিংহে দীপু দাসের নৃশংস খুনে বিস্ফোরক পরিবার!

বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলল তাঁর পরিবার। পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস কারখানার সুপারভাইজার দীপুকে গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল ধর্মান্ধ দুষ্কৃতী কারখানার বাইরে টেনে নিয়ে এসে নগ্ন করে এবং গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারে। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দীপুর ভাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “দীপু কোনো ধর্মকে অসম্মান করতে পারে না। ষড়যন্ত্র করে ওকে মারা হয়েছে। যারা আমার ভাইকে এভাবে খুন করল, তাদের একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। আমরা অন্য কোনো বিচার চাই না।” তিন বছর আগে বিয়ে করা দীপুর ঘরে এখন দেড় বছরের এক সন্তান। উপার্জনকারীকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ প্রশাসনও স্বীকার করে নিয়েছে যে দীপুর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ র‍্যাব (RAB) ইতিমধ্য়েই এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও পরিবার দাবি করছে তারা আতঙ্কিত নয়, কিন্তু ডজন খানেক মৌলবাদীর সেই উন্মত্ত উল্লাস আর দীপুকে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারার দৃশ্য এখনও ময়মনসিংহের বাতাসে বিভীষিকা হয়ে রয়েছে। এখন দেখার, এই নৃশংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ইউনূস প্রশাসন কতটা সক্রিয় হয়।