ভোটের আগে ‘বেনাগরিক’ হওয়ার ভয়! বনগাঁয় ১ লক্ষ ২০ হাজার মতুয়া ভোটারকে তলব কমিশনের, অস্বস্তিতে বিজেপি

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই মতুয়াগড়ে যে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল, খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই তা বাস্তবে পরিণত হলো। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৬২ জন ভোটারকে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ১ লক্ষ ২০ হাজার জনই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।
শুনানির মুখে মতুয়ারা কেন? কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাদের কাছে ২০০২ সালের আগের নথিপত্র নেই, তাদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বনগাঁর সিংহভাগ মতুয়াই ২০০২ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। ফলে কমিশনের নির্ধারিত নথি না থাকায় তাঁরা এখন বেনাগরিক হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন।
সুব্রত ঠাকুরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ না কি বাধ্যবাধকতা? মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছেন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা ঠাকুরবাড়ির প্রতিনিধি সুব্রত ঠাকুর। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন:
এই বিশাল সংখ্যক ‘ডাউটফুল’ ভোটারদের দ্রুত সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকেও ফাস্ট ট্র্যাক মোডে এই প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে এখনও মুখ খোলেননি বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
তৃণমূলের তোপ: বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বনগাঁর তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “২০১৯ সালে আইন হওয়ার পর ৬ বছরে কেন নাগরিকত্ব দেওয়া হলো না? আসলে বিজেপি মতুয়াদের বেনাগরিক করার চক্রান্ত করছে।”