মোদীর স্বপ্ন, যোগীর বাস্তবায়ন! পর্যটনে বিশ্বরেকর্ড গড়ল কাশী, গত ১২ বছরে পা রাখলেন ৪৫ কোটি মানুষ

ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে তৈরি পৌরাণিক শহর বারাণসী এখন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে এক অপরাজেয় নাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনায় ‘ব্র্যান্ড বেনারস’ আজ বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির তালিকায় এখন শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে এই প্রাচীন শহর।
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: ৪৫ কোটির মহোৎসব
পর্যটন বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ (সেপ্টেম্বর) সালের মধ্যে মোট ৪৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৬২ জন দেশি-বিদেশি পর্যটক কাশীতে এসেছেন। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে অবাক হতে হয়:
২০১৪ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৪.৮৯ লক্ষ।
২০২৫ সালে (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪.৬৯ কোটিতে। অর্থাৎ, ২০১৪ সালের তুলনায় পর্যটনের হার প্রায় ১৪ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড।
কীভাবে বদলে গেল ‘আধুনিক কাশী’?
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে উন্নয়নের কাজ শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। যে সমস্ত পদক্ষেপ পর্যটকদের টানিয়া এনেছে:
কাশী বিশ্বনাথ করিডোর: জাঁকজমকপূর্ণ এই করিডোর উদ্বোধনের পর ভক্তদের সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেড়েছে।
গঙ্গার রূপবদল: গঙ্গার ঘাটগুলির সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং গঙ্গায় বিলাসবহুল ক্রুজ পরিষেবা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সারনাথের উন্নয়ন: ভগবান বুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিধন্য সারনাথকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক, রেল এবং আকাশপথের আমূল উন্নতি কাশীকে দেশের সব প্রান্তের সাথে জুড়ে দিয়েছে।
করোনা-পরবর্তী জোয়ার ও অর্থনীতি
২০২০ ও ২০২১ সালে অতিমারির কারণে পর্যটনে ভাঁটা পড়লেও, ২০২২ সালের পর থেকে বারাণসীতে যে জনজোয়ার দেখা দিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে এবং উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতিতে এর সদর্থক প্রভাব স্পষ্ট দৃশ্যমান।
প্রাচীন গৌরব বজায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজানো কাশীর এই নতুন চিত্র এখন গোটা বিশ্বের কাছে ভারতের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।