শুধু কলের জলে নয়! ফুলকপির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা পোকা ও রাসায়নিক দূর করার ৫টি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি

শীতকাল মানেই টাটকা ফুলকপির সমাহার। কিন্তু এই সাদা, টাইট মাথার সবজির ভাঁজের গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে অসংখ্য ছোট পোকা, তাদের ডিম, ময়লা ও জমিয়ে রাখা রাসায়নিকের আস্তরণ। সাধারণত শুধু কলের জলে ধুয়ে নিলে এই ক্ষতিকর জীবাণুগুলো দূর হয় না, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে রান্নাঘরের কিছু সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করে ফুলকপির ভাঁজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ময়লা ও পোকা খুব সহজেই বের করে ফেলা যায়।

ফুলকপি পরিষ্কার করার ৫টি সহজ কৌশল

১. নুন ও হলুদ জলের ব্যবহার

একটি পাত্রে হালকা গরম জল নিন। তাতে এক চামচ নুন এবং আধ চামচ হলুদ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে দিন। ফুলকপির টুকরোগুলো এই মিশ্রণে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। নুন ও হলুদের অ্যান্টিসেপটিক গুণ পোকা, ডিম ও ময়লাকে আলগা করে জলের ওপর ভাসিয়ে তোলে।

২. লেবুর রসের কৌশল

একটি বড় পাত্রের জলে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই জলে ফুলকপি মাত্র ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। লেবুর অ্যাসিডিক প্রকৃতি পোকা ও ময়লা দূর করার পাশাপাশি রাসায়নিকের প্রভাবও কমাতে সাহায্য করে।

৩. ভিনেগারের জলে ডুবিয়ে রাখুন

ভিনেগার একটি চমৎকার ক্লিনিং এজেন্ট, যা শক্তিশালী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এক লিটার সাধারণ জলে দুই টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে তাতে ফুলকপি ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিলেই ফুলকপি জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে।

৪. ফুটন্ত জলে হালকা সেদ্ধ করার টিপস

যদি আপনি ফুলকপি রান্না করার আগে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে চান, তবে হালকা ফুটন্ত জলে মাত্র ২ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এই উষ্ণতা ভেতরে থাকা অদৃশ্য পোকা বা ক্ষতিকর কীটকে নিশ্চিতভাবে মেরে ফেলবে।

৫. কাটার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা

ফুলকপি কাটার আগে তার বাইরের সবুজ পাতা ও কান্ডের অংশ সরিয়ে ফেলুন। এরপর মাঝখান থেকে কেটে ভিতরের অংশে মনোযোগ দিয়ে দেখুন কোনো কালচে দাগ বা ছিদ্র আছে কিনা। যদি থাকে তবে সেই অংশ বাদ দিন।

পরের বার যখন ফুলকপি কিনবেন, তখন শুধু কলের জলে না ধুয়ে নুন, হলুদ, ভিনেগার বা লেবুর মতো সাধারণ ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করে ফলকপিকে জীবাণুমুক্ত করুন। এতে পরিবার থাকবে নিরাপদ, আর রান্নার স্বাদও হবে স্বাস্থ্যকর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy