বাণিজ্য-উত্তেজনার মধ্যেই মোদী-ট্রাম্পের ফোন কল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা, এক্সবার্তায় মোদী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য-উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আলোচনা এমন এক সময়ে হলো যখন মেক্সিকো ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে—অনেকের অনুমান, ট্রাম্পকে খুশি করতেই মেক্সিকো এই পদক্ষেপ করেছে। একই দিনে দিল্লিতে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য আলোচনাও শুরু হয়েছে।

মোদী-ট্রাম্পের আলোচনার বিষয়বস্তু

কথোপকথনের পরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘এক্স’-এ লিখেছেন:

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ভারত ও আমেরিকা বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।”

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জট ও মার্কিন অবস্থান

বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের বকেয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই চুক্তিতে প্রধান বাধাগুলি রয়ে গেছে:

  • মার্কিন আধিকারিকের মন্তব্য: ওয়াশিংটনে এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত এবার চুক্তির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রস্তাব রেখেছে।

  • প্রধান বাধা: মার্কিন মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার না পাওয়া এখনও সবচেয়ে বড় বাধা।

  • মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের বক্তব্য: জেমিসন গ্রিয়ার সেনেট কমিটিকে জানান, “ভারত একটি কঠিন বাজার… কিন্তু এবার যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছে, তা এত বছরের মধ্যে সেরা।” তিনি আরও জানান, দিল্লিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল ভারতের কৃষিজ পণ্যের আমদানিবিরোধী অবস্থানসহ বাকি ‘ফ্রিকশন পয়েন্ট’গুলোর সমাধানে আলোচনায় ব্যস্ত।

ভারতের লক্ষ্য ও ট্রাম্পের চাপ

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, আলোচনা ঠিকঠাক গতিতে এগোচ্ছে এবং দুই দেশের লক্ষ্য হলো চলতি বছরই ট্রেড চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করা

তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে চাপ ক্রমশ বাড়ছে:

  • বাড়তি শুল্ক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক এবং রুশ তেল ক্রয়ের কারণে অতিরিক্ত ২৫% জরিমানা আরোপ করেছে, অর্থাৎ মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

  • নতুন হুঁশিয়ারি: ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারতের চাল আমদানি আসলে আমেরিকায় ‘ডাম্পিং’। এর পর নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

  • কৌশল: অনেকের মতে, ট্রাম্প কৌশলগত ভাবে চালের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংস রফতানির জন্য চাপ বাড়াতে চাইছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy