বিয়ের আগে ঋতুস্রাব বন্ধের তথ্য গোপন, ছত্তিশগড় হাইকোর্টে খারিজ হল স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের বিরুদ্ধে আবেদন, আদালত বলল এটি ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’।

ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পারিবারিক আদালতের বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) নির্দেশ বহাল রেখেছে। বিচারপতি এদিন রায় দিয়েছেন যে, বিয়ের আগে দীর্ঘ সময় ধরে ঋতুস্রাব (Menstruation) বন্ধ থাকার তথ্য গোপন করে বিয়ে করা এবং এর ফলে বৈবাহিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে না-দেওয়া ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’র (Mental Cruelty) আচরণের সমান

মামলার পটভূমি

  • ঘটনা: ছত্তিশগড়ের কবিরধাম জেলার ওই দম্পতির ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ে হয়। কিছু দিন পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি বাড়তে থাকে।

  • স্বামীর আবেদন: স্বামী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল:

    • তথ্য গোপন: স্ত্রী এবং তাঁর পরিবার বিয়ের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য গোপন করেছিলেন। ডাক্তারকে দেখানোর পর জানা যায় যে প্রায় ১০ বছর ধরে স্ত্রীর ঋতুস্রাব হচ্ছে না।

    • ভবিষ্যতের উদ্বেগ: এই শারীরিক অবস্থার কারণে গর্ভধারণে গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ ‘খাদের কিনারে’।

    • অসহযোগিতা: স্ত্রী স্বামীর বুড়ো বাবা-মাকে দেখতে অস্বীকার করতেন এবং বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে যত্ন নিতেন না।

  • পারিবারিক আদালতের রায়: স্বামীর বক্তব্য শোনার পর পারিবারিক আদালত দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টে স্ত্রীর আপিল ও রায়

স্ত্রী পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালতে স্ত্রী দাবি করেন যে বিয়ের পর তাঁকে বাড়ির সমস্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তাঁকে বারবার হয়রানি ও ‘বন্ধ্যা’ বলে অপমান করা হয়েছিল।

  • হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ছত্তিশগড় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ জানায়:

    • উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে তারা ২০১৬ সাল থেকে আলাদা থাকছে।

    • স্ত্রীর চিকিৎসার নথি থাকলেও তিনি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে তাঁর অবস্থার সম্পূর্ণ উন্নতি হয়েছে।

    • আদালত মন্তব্য করে, এমন ঘটনায় যেখানে ভবিষ্যৎ জুড়ে রয়েছে, বিয়ের আগে দীর্ঘদিন ধরে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তা লুকিয়ে রাখা মানসিক নিষ্ঠুরতা

  • চূড়ান্ত নির্দেশ: বিচারপতি স্বামীর দাবিকে সমর্থন করে এবং তাঁদের স্বাভাবিক বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসা অসম্ভব বলে মনে করে পারিবারিক আদালতের বিবাহবিচ্ছেদের রায় বহাল রাখেন। তবে, মানবিক কারণে স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য স্বামীকে চার মাসের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy