ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬ (World Inequality Report 2026)-এর সমীক্ষার তালিকায় ভারত বিশ্বের অন্যতম ‘বৈষম্য’ অর্থনীতির শিরোপা অর্জন করেছে, যা দেশের আয়ের এবং সম্পদের বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, ভারত বৈষম্যের নিরিখে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা কোনো দেশের জন্যই কাম্য নয়।
আয় ও সম্পদের চরম বিভাজন
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অর্থনৈতিক বৈষম্য অত্যন্ত লজ্জাজনক পর্যায়ে রয়েছে:
| পরিসংখ্যানের ক্ষেত্র | শীর্ষ ১০% নাগরিকের দখল | নীচের ৫০% মানুষের ভাগ | শীর্ষ ১% মানুষের দখল |
| জাতীয় আয় (National Income) | ৫৮% | মাত্র ১৫% | — |
| দেশের মোট সম্পদ (Total Wealth) | ৬৫% | — | ৪০% |
আয়ের বৈষম্য (income gap in India) অনুসারে ভারত ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে। সম্পদের অবস্থানের নিরিখে, দক্ষিণ আফ্রিকার পরেই ভারতের স্থান দ্বিতীয়। তুলনামূলকভাবে, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়ের ও সম্পদের বিভাজন অনেক কম।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান প্রবণতা
-
ঔপনিবেশিক সময়ের প্রত্যাবর্তন: রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯২২ সালে (ব্রিটিশ শাসনের সময়) দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ নাগরিক জাতীয় আয়ের ৫৫-৫৭ শতাংশ দখল করত। সেই হার ১৯৮২ সালে কমে প্রায় ৩৫ শতাংশ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এই বৈষম্য আবার ঔপনিবেশিক সময়ের সমতুল্য পর্যায়ে (৫৮%) ফিরে এসেছে।
-
সমৃদ্ধদের অংশ বৃদ্ধি: ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শীর্ষ ১০ শতাংশ এবং নীচের ৫০ শতাংশ মানুষের আয়ের ফারাক ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮.২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, কেবল সমৃদ্ধদের অংশই বাড়ছে, দরিদ্র মানুষের ভাগ হয় কমছে, নয়তো একই জায়গায় স্থির থাকতে দেখা যাচ্ছে।
বৈশ্বিক এবং ভবিষ্যতের উদ্বেগ
এই সমস্যা শুধু ভারতের ক্ষেত্রে নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও দেখা গেছে যে বিশ্বের ০.০০১ শতাংশ ধনীর হাতে নীচের ৫০ শতাংশ মানুষের মোট সম্পত্তির তিনগুণ অংশ রয়েছে।
যদিও বিভিন্ন দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, বাস্তবে ধনীদের সম্পদের অংশ ক্রমশ বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৫ সালে শীর্ষ ধনীর হাতে মোট সম্পত্তির ৪ শতাংশ থাকলেও, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকগুলোতে বৈষম্য আরও তীব্র হবে, যা শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, সমাজ ও রাজনীতির জন্যও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই রিপোর্টটি নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।