গোয়া অগ্নিকাণ্ড: ২৫ মৃত্যুর পর থাইল্যান্ডে আটক নাইটক্লাবের মালিক দুই ভাই! কী ছিল লুথরাদের পালানোর কারণ?

গোয়ার জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ক্লাবটির মালিক তথা দিল্লির রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী সৌরভ ও গৌরব লুথরাকে (Saurabh and Gaurav Luthra) থাইল্যান্ডে আটক করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে ক্লাবটিতে আগুন লেগে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। এর পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এই দুই ভাই।

ঘটনার দিন রাতে যা ঘটেছিল:

ক্লাবে মিউজিক্যাল নাইট চলার সময় প্রায় ১০০ জন পর্যটক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। লাইভ পারফরম্যান্স চলাকালীন ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ‘ফায়ারক্র্যাকার’ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্লাবের অভ্যন্তরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নিরাপত্তার ত্রুটি: ক্লাবে কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) ছিল না এবং সেফটি অ্যালার্মও বাজেনি। এর ফলে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরিয়ে সকলের বেরোতে অনেকটা সময় লেগে যায়।

পালানোর পথে বাধা: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লাবে ঢোকার রাস্তা সরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পালাতে গিয়ে বহু মানুষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে এদিক ওদিক চলে যান এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার ফলে বেশিরভাগের মৃত্যু হয়।

উদ্ধারকাজ: দমকল কর্মীদের ৪০০ মিটার দূরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করতে হয়। পরে ২৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ৫ জন পর্যটক এবং বাকি ২০ জন ক্লাবের কর্মী ছিলেন। বেশিরভাগ দেহ বেসমেন্টের রান্নাঘর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়।

পলাতক মালিকদের খোঁজে অভিযান:

ঘটনার পরপরই ক্লাব ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ যখন মালিকদের খোঁজ শুরু করে, তখন জানা যায় যে সৌরভ ও গৌরব লুথরা শনিবার রাতেই দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পালিয়েছেন। গোয়া পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা (negligence) এবং অপরাধমূলক হত্যার দায় (culpable homicide not amounting to murder) মামলা রুজু করেছে।

পুলিশ প্রথমে ইন্টারপোলের সাহায্যে তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা করে। এর পর গোয়া পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে বিদেশ মন্ত্রক তাদের পাসপোর্ট সাসপেন্ড করে দেয়। পাসপোর্ট সাসপেন্ড হওয়ার পরই বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে এই দুই ভাইকে আটক করা হয়। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, এই নাইটক্লাবের কো-ওনার অজয় গুপ্তকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে ‘স্লিপিং পার্টনার’ দাবি করে ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।