দেশে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভারসাম্যে এখনও বড়সড় ঘাটতি। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করলেও, একটি নির্মম সত্য হলো—সন্তান জন্মের পর চাকরি ছেড়ে দেওয়া নারীর সংখ্যা এদেশে অনেক বেশি। এর পেছনে শুধু সন্তানের সঙ্গে দিন-রাত কাটানোর পর কাজে ফিরতে না চাওয়ার মানসিকতাই দায়ী নয়, বরং দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার ফলে শরীরে বাসা বাঁধা আলসেমি ও অবসাদও বড় বাধা তৈরি করে।
সন্তান ও সংসার সামলানো প্রতিটি মায়ের জন্যই একটি কঠিন পরীক্ষা। তাই ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের সময় মায়েরা সম্মুখীন হন নানা বাধার, যার মধ্যে প্রধান হলো—সন্তানকে ফেলে চাকরি করার আত্মযন্ত্রণা। এই জটিল সমস্যা মোকাবিলা করে সফলভাবে কর্মজীবনে ফিরতে বিশেষজ্ঞরা ৫টি অত্যন্ত কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন:
১. শরীরকে প্রস্তুত করুন: ঝেড়ে ফেলুন আলসেমি
দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার কারণে আপনার শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ধীর গতিতে চলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ অফিসে গেলে শরীর মানিয়ে নিতে পারবে না, ফলে আপনি দ্রুত বিধ্বস্ত এবং এনার্জিহীন বোধ করবেন। কোনও কাজেই মন বসবে না।
-
পরামর্শ: আজ থেকেই অলসতা ঝেড়ে ফেলুন। শরীরকে সচল করে তোলার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। সম্ভব হলে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরান। এটি আপনার শারীরিক শক্তি এবং মনোযোগ দ্রুত ফিরিয়ে আনবে।
২. নির্ভরযোগ্য ‘কেয়ার গিভার’ ঠিক রাখুন: ‘খারাপ মা’ হওয়ার চিন্তা দূর করুন
সন্তানকে রেখে কাজে গেলেই কেউ ‘খারাপ মা’ হয়ে যান না—এই ভ্রান্ত ধারণাটি মন থেকে সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলুন। আপনার অনুপস্থিতিতে সন্তানের সঠিক দেখাশোনার জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা করে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
-
পরামর্শ: শিশু জন্মানোর আগেই বা ছুটির আগেই এমন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বা সংস্থাকে ঠিক করে রাখুন। পরিচিতদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে ভালো ও নিরাপদ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে কেয়ার) বেছে নিন।
৩. কাজের কথা মাথায় রাখুন: চাপ নয়, নিজেকে সময় দিন
লম্বা বিরতির পর কাজে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারেন। হঠাৎ করেই অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। এতে উল্টো চাপ বাড়বে।
-
পরামর্শ: তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে নিজেকে কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিন। আপনার বসের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে নিন এবং সন্তানের জরুরি প্রয়োজনে যেন ছুটি নিতে পারেন, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করে রাখুন। এতে মানসিক চাপ কমবে এবং অফিসে গিয়ে দ্রুত কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।
৪. মনকে শক্ত করুন: গুরুত্ব দিন অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে
নিজের সন্তানকে ছেড়ে থাকতে মন না চাইলেও, আপনাকে মনে রাখতে হবে—আপনি কাজে না গেলে আপনার সংসারের অর্থনৈতিক দিকটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে আপনিও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারাবেন।
-
পরামর্শ: এই কঠিন সত্যগুলি মাথায় গেঁথে নিন। নিজেকে বোঝান, আপনার কাজ কেবল আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যই জরুরি। মনকে শক্ত করুন, এতেই আপনি হাসিমুখে এবং অনায়াসে অফিস যেতে পারবেন।
৫. জমিয়ে রাখুন ব্রেস্টমিল্ক: মায়ের দুধে ফিরবে শিশুর স্বাস্থ্য
আপনার সন্তানের বয়স যদি ৬ মাসের কাছাকাছি হয়, তবে প্যাকেজজাত দুধের পাশাপাশি তাকে মাতৃদুগ্ধও খাওয়ানো চালিয়ে যান।
-
পরামর্শ: অফিসে যাওয়ার আগে এবং অফিস থেকে ফেরার পর ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করে একটি বোতলে দুধ ভরে ফ্রিজারে জমিয়ে রাখুন। সন্তানের খিদে পেলে যেন তাকে ওই দুধ খাওয়ানো হয়, সেদিকে নজর দিন। মায়ের দুধ খেলে সন্তানের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং সে একাধিক জটিল অসুখ থেকে দূরে থাকবে।