ক্লাবজুড়ে আতশবাজির ব্যবহারেই বিপত্তি, দমবন্ধ হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু
পানাজি, গোয়া: উৎসবের রাত মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নাইটক্লাবে শনিবার গভীর রাতে আতশবাজি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে ও দমবন্ধ হয়ে ২৫ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্লাবের কর্মী ও কয়েকজন পর্যটক।
ক্লাবের অভ্যন্তরে আতশবাজির (ফায়ারওয়ার্কস) ব্যবহার করার ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ক্লাবটি গ্রাস করে নেয়।
কীভাবে ঘটল বিপর্যয়: ঘটনার সময়ক্রম
পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগুন লাগার মূল কারণ হলো লাইভ পারফরম্যান্সের সময় শিল্পীদের দ্বারা ‘পাইরো-গান’ বা আতশবাজি (Pyrotechnics) ব্যবহার।
| সময় | ঘটনা |
| ৬ ডিসেম্বর, রাত ১১.৪৫ মিনিট | প্রথম তলায় ড্যান্স ফ্লোরের কাছাকাছি আগুন লাগে। |
| ১১.৪৫-১১.৫০ মিনিট | আগুন দেখা যেতেই ক্লাবের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন বাইরে বেরোনোর চেষ্টা শুরু করে। |
| ১১.৫৫ মিনিট | আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছাদ ও ভেতরের অংশে দাহ্য পদার্থ থাকায় নিমিষে ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো জায়গা। বেসমেন্টের রান্নাঘর ও স্টোরেজ এলাকায় কর্মীরা আটকে পড়েন। |
| ৭ ডিসেম্বর, রাত ১২.০২ মিনিট | পুলিশ কন্ট্রোল রুমে প্রথম জরুরি ফোন আসে। |
| ১২.১০ মিনিট | ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছান। তবে সরু রাস্তার কারণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে গাড়ি পার্ক করতে বাধ্য হন। এতে উদ্ধার কাজ শুরু হতে দেরি হয়। |
| সকাল পর্যন্ত | আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ২৫ জন প্রাণ হারান। |
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, দেশ ছাড়লেন মালিকেরা
এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধারকাজ থেকে নজর সরিয়ে জবাবদিহিতার দিকে মনোযোগ দেয় প্রশাসন। পুলিশ ক্লাবটির মালিক সৌরভ লুত্থরা এবং গৌরব লুত্থরা-সহ সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ও ইভেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ:
১. আগুন সুরক্ষার নিয়মাবলী না মানা (Lack of fire safety compliance)।
২. জরুরি বহির্গমন পথের অভাব (Missing emergency exits)।
৩. বন্ধ জায়গায় আতশবাজির ব্যবহার (Use of pyrotechnics in a closed space)।
দেশ ছাড়ার চেষ্টা: ইন্টারপোলের সাহায্য চাইল গোয়া পুলিশ
পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ক্লাবটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, ৭ ডিসেম্বর ভোর ৫.৩০ মিনিটে দুই অভিযুক্ত মালিক লুত্থরা ভাইয়েরা ইন্ডিগো ফ্লাইট (6E 1073) ধরে ব্যাংককের ফুকেট-এর উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।
এই খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়া পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করে। এরপরই তাদের বিদেশে সনাক্ত ও আটক করার জন্য সিবিআইয়ের ইন্টারপোল বিভাগের সহায়তা চেয়েছে গোয়া পুলিশ।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দিল্লি নিবাসী ভারত কোহলি-কে আটক করে ট্রানজিট রিমান্ডে গোয়াতে আনা হয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।