উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার চৌরা কালান গ্রামে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (Special Intensive Review – SIR) প্রচার চলাকালীন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রশাসনের নজর কেড়েছে। জানা গিয়েছে, গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবে থাকা এক যুবকের নামে ভোটের ফর্মে জাল সই দিয়ে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ফলে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কীভাবে সামনে এলো ঘটনা?
গত ৩০ নভেম্বর, নির্বাচনী কর্মকর্তারা যখন চৌরা কালান গ্রামে SIR অভিযানের জন্য পৌঁছান, তখন সামুন নামে এক যুবকের জমা দেওয়া ফর্মটি খতিয়ে দেখা হয়। সামুনের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে যান। সেখানেই তাঁর ভাই আকরাম জামিল এবং আত্মীয় আমজাদ জামিল জানান যে সামুন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আছেন এবং সম্প্রতি তিনি গ্রামে আসেননি।
কর্মকর্তারা তখন সামুনের নামে জমা দেওয়া সই করা ফর্মটি দেখালে পরিবার অবাক হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানান যে ওই সইটি সামুনের নয়। এতেই বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় এবং অভ্যন্তরীণ প্রতারণার দিকটি সামনে আসে।
আত্মীয়রাই অভিযুক্ত, নির্বাচন আইনে মামলা
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, সামুনের ফর্ম পূরণ এবং জাল সই করার পেছনে তাঁর দুই আত্মীয়— আকরাম জামিল এবং আমজাদ জামিল— জড়িত। এই তথ্য সামনে আসার পরই ৩ ডিসেম্বর চিলকানা থানায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আইনের ধারা ৩১ সহ একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। SIR ফর্ম নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এতে ভুল তথ্য দেওয়া আইনত সরাসরি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়, তাই প্রশাসন এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
গভীর রাতে অভিযান, অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার
গত ৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে যে অভিযুক্ত দুজন গ্রামে উপস্থিত আছেন। এরপর পুলিশ দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে আকরাম ও আমজাদকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফর্ম পূরণ করার সময় তাঁরা কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন এবং সামুনের নামে সই করেছিলেন। ঠিক কী কারণে তাঁরা এই কাজ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পুলিশ তাদের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া বার্তা: জিরো টলারেন্স নীতি
জেলা প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেছে। কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন যে নির্বাচনী নথিতে যেকোনো ধরনের কারচুপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। SIR সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা সংশোধন করা। এই ধরনের কার্যকলাপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে আঘাত করে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রুখতে গ্রাম স্তরে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, ছোট কোনো গ্রামে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া একটি পদক্ষেপেও বড় ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ এবং প্রশাসন দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত শেষ করার দিকে নজর দিচ্ছে।