বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ, ‘হুমায়ুনের বিভাজনের বক্তব্য দলের ছিল’, মুর্শিদাবাদে আক্রমণ মহম্মদ সেলিমের

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করার পরিপ্রেক্ষিতে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সোমবার ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ উপলক্ষে মুর্শিদাবাদের রানিনগরে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।

গত ২৯ নভেম্বর কোচবিহার থেকে শুরু হওয়া সিপিআইএম-এর ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ বর্তমানে মুর্শিদাবাদে চলছে। এই সমাবেশেই হুমায়ুন ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করেন মহম্মদ সেলিম।

হুমায়ুন ইস্যুতে সেলিমের বিস্ফোরক মন্তব্য

হুমায়ুন কবীরের সাসপেনশন নিয়ে সেলিম বলেন, “ঠিক যেদিন মোদী বাংলায় আসেন, সেদিনই হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে ৩০ শতাংশ হিন্দুকে ভাগীরথীতে কেটে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূল হুমায়ুনকে বহিষ্কার করেনি।”

তিনি আরও বলেন,

“কারণ, সেই বিভাজনের বক্তব্য হুমায়ুনের নিজের ছিল না। তৃণমূল দলের ছিল। আর আজ যখন বাবরি মসজিদ স্থাপনের বিষয়টি চলে এল, তখন (দল বলছে) হুমায়ুনের নিজস্ব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। বের করে দিল। এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।”

মুহাম্মদ সেলিম এই দ্বিচারিতার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন।

সরকার ধর্ম করবে না, করবে রাস্তা-স্কুল

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, “আমরা বলছি, মন্দির-মসজিদ যে ধর্ম করে, তাকে মানায়। সরকারের কাজ রাস্তা, স্কুল করা। কেন রানিনগরে কলেজ হয়নি?”

তিনি তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়কেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য দায়ী করে বলেন, এর ফলে কালোবাজারি বেড়েছে, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না এবং ভাষার নামে, পোশাকের নামে বিভেদ করা হচ্ছে। তিনি পুরনো ইতিহাসের সূত্র টেনে বলেন, “জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘বিজেপি বর্বর দল’। মমতা বলেছিলেন, ‘বন্ধু’। আমরা এই বিভাজনের বিরুদ্ধে।”

বামফ্রন্টের কাজ বনাম বর্তমান পরিস্থিতি

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আভাস রায় চৌধুরীও এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি তৃণমূল-বিজেপি উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “এরা মাটির নামে রাজনীতি করে। আর তলে তলে মাটি বেচে দেয়। গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা যত কম শিখবে, তত লাভ তৃণমূল-বিজেপির।”

বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন কৃষিজীবীদের জমির অধিকার দেওয়া এবং ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে গরিব মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:

“বামফ্রন্ট আসার আগে কম পরিবার ছিল, তিন-চার বেলা খেতে পারতো। …যখন (বামফ্রন্ট) বিদায় নিচ্ছে, তখন ২০ শতাংশ মানুষ গরিবির আওতায়।”

আভাস রায় চৌধুরী আরও দাবি করেন, বামফ্রন্ট ধান, পাট উৎপাদনে মুর্শিদাবাদকে অনেক ওপর নিয়ে যেতে পেরেছিল। কিন্তু এখন যারা ক্ষমতায়, তাদের নবান্ন মানে “বাবুরবাড়ির উচ্ছিষ্ট খেতে হবে”—এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy