‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংসদীয় বিতর্কের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। সোমবার এক্স পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে “বিকৃতির মাস্টার” বলে অভিহিত করে বিজেপিকে নিশানা করেছেন।
জয়রাম রমেশ স্বাধীনতার আগে বাংলায় এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জোট এবং ২০০৫ সালে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর সমাধিতে প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী এলকে আদবানির সফরের প্রসঙ্গ তুলে কড়া জবাব দেন।
কংগ্রেসের পাল্টা জবাব
প্রধানমন্ত্রী মোদী লোকসভায় দাবি করেছিলেন যে কংগ্রেস জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে আপস করেছে এবং “মুসলিম লীগের কাছে আত্মসমর্পণ” করেছে। এমনকি তিনি নেহরুর বিরুদ্ধে বন্দে মাতরমের “টুকরো-টুকরো” করার অভিযোগও তোলেন।
এরই পাল্টা জবাবে জয়রাম রমেশ লেখেন:
“নেহরুর বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী—যিনি বিকৃতির মাস্টার—তিনি কি উত্তর দেবেন: ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করা ব্যক্তির সঙ্গে ১৯৪০-এর দশকের শুরুতে বাংলায় কোন ভারতীয় নেতা জোট গঠন করেছিলেন? তিনি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ২০০৫ সালের জুন মাসে করাচিতে কোন ভারতীয় নেতা জিন্নাহর প্রশংসা করেছিলেন? তিনি ছিলেন এলকে আদবানি।
আদবানি ও জিন্নাহ-র ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ
জয়রাম রমেশ তার পোস্টে জিন্নাহর সমাধিস্থলে আদবানির দেওয়া একটি বার্তার উল্লেখ করেন। আদবানি ভিজিটরস বুকে লিখেছিলেন, “খুব কম লোকই আছেন যারা আসলে ইতিহাস তৈরি করেন। কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলি জিন্না ছিলেন এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব।”
আদবানি জিন্নাহর ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্টের ভাষণের কথা উল্লেখ করে আরও বলেছিলেন যে সেটি “একটি ক্লাসিক, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক তার নিজের ধর্ম পালনের জন্য স্বাধীন হবে, কিন্তু রাষ্ট্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে এক নাগরিকের সঙ্গে অন্যের কোনো পার্থক্য করবে না।”
প্রসঙ্গত, বিজেপির তথ্য অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল জোট মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন।
জয়রাম রমেশের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী সংসদে বিতর্কের সময় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতিরও সমালোচনা করেছিলেন, দাবি করেছিলেন যে কংগ্রেস জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে আপস করেছে।