‘জলাভূমির উপর ফ্ল্যাট তৈরির অনুমতি দেওয়া যায় না’, পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ হাইকোর্টের

পূর্ব কলকাতা জলাভূমির যে কোনও জায়গায় বা জমিতে (দাগ নম্বর-সহ) কোনও ধরনের নির্মাণ করা যাবে না। সোমবার এক মামলার শুনানিতে এই কঠোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্য সরকার, পৌরসভা এবং পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষকে তাদের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল করতে হবে।

বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দেন,

“পূর্ব কলকাতা জলাভূমির উপর ফ্ল্যাট তৈরির কোনো অনুমতি দেওয়া যায় না।”

অবিলম্বে ভাঙতে হবে অবৈধ নির্মাণ

আদালতের নির্দেশ, এই দাগ নম্বরে নির্মিত সমস্ত নির্মাণ অবৈধ এবং তা অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে। রাজ্য, পুরসভা ও পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, জলাভূমিতে গড়ে ওঠা কোনও বেআইনি নির্মাণে যেন বিদ্যুৎ পরিষেবা না দেওয়া হয়, তা সুনিশ্চিত করতে সিইএসসি (CESC) এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি কী পদক্ষেপ করা হলো, তা জানিয়ে সব পক্ষকে আদালতে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট
এদিন শুনানিতে পূর্ব কলকাতা জলাভূমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ আরও বহু বেআইনি বহুতল চিহ্নিত করেছে। এই তথ্য শুনে বিচারপতি সিনহা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন:

“যে সমস্ত ফ্ল্যাট বা বাড়ির বিরুদ্ধে বেআইনি জমি দখল করে গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে, তাদের তালিকা কেন আপনারা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছেন না? বহু সাধারণ ব্যক্তি যাঁরা এই সমস্ত ফ্ল্যাট কিনছেন, তাঁরা যে পূর্ব কলকাতা জলাভূমির উপরে নির্মাণ গড়ে উঠেছে, তা জানেনই না। তাঁরা অজান্তে এই ফাঁদে মধ্যে পড়ছেন, আর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এইভাবে খোয়াতে বসছেন।”

বিচারপতি আরও বলেন, “কেন আপনারা অবিলম্বে এই সমস্ত জমিতে তৈরি নির্মাণ বন্ধ করছেন না? ৫ শতাধিক বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হওয়ার পরেও কেন কোনো কাজ হচ্ছে না? এত ধীর গতিতে কাজ করলে হবে না। সমস্ত বহুতল ভেঙে-গুঁড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।”

যদিও পূর্ব কলকাতা জলাভূমির পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা বারবার রাজ্য প্রশাসন এবং পুরসভাকে বলা সত্ত্বেও তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না।” তখন বিচারপতি সিনহা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “সমস্ত তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করুন। সাধারণ মানুষ দেখুক যে আদালতের নির্দেশে অন্তত কিছু কাজ হচ্ছে। আদালত দিনের পর দিন নির্দেশ দিচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এটা আদালতের পক্ষেও অত্যন্ত অস্বস্তিকর।”

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy