জলপাইগুড়ি পকসো আদালত নাবালিকাকে ধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশীকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা র নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক রিন্টু সুর। অনাদায়ে আরও দু’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই মামলায় নির্যাতিতা নাবালিকাকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে ডিস্ট্রিক্ট লিগাল সার্ভিস অথরিটিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মাত্র আট মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হলো।
ঘটনার বিবরণ
ধর্ষণকাণ্ডটি ঘটেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে ধূপগুড়ি থানা এলাকায়। ১৬ বছরের ওই নাবালিকা ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত (যার বয়স ছিল ৫০ বছর) এই ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে নির্যাতিতা প্রথমে কাউকে কিছু জানায়নি।
পরবর্তী সময়ে, শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আসতে দেখে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে চাপ দেন। অবশেষে দিদি ও বাবার কাছে কাঁদতে কাঁদতে তার ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা জানায় নির্যাতিতা। এরপরই তার বাবা ওই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ
ধর্ষণের জেরে নাবালিকা একটি সন্তানের জন্ম দেয়। তদন্তকারী অফিসার নাবালিকা, তার সদ্যজাত সন্তান এবং অভিযুক্তের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে জমা হয়, যা অভিযোগকে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দত্ত জানান, দোষী রিন্টু সুরকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং নির্যাতিতাকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
“বিচারক এদিন তুলে ধরেন যে নাবালিকা কী ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করেছে এবং এখনও করে চলেছে। মাত্র ৮ মাসের মাথায় এই মামলায় রায় ঘোষণা হলো।”