“শেষ ভালো যাঁর, সব ভালো তাঁর” – এই আপ্তবাক্য যেন পুরোপুরি প্রযোজ্য ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দর ক্ষেত্রে। গোয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য না-পেলেও বছরটি সাফল্যের আলোয় শেষ করতে চলেছেন চেন্নাইয়ের এই তরুণ দাবাড়ু। সম্প্রতি তিনি ফিডে (FIDE) সার্কিটে শীর্ষস্থান দখল করে ২০২৬ ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
শীর্ষস্থান দখল
২০২৫ সালটি মোটের উপর ভালোই গিয়েছে প্রজ্ঞানন্দর। তারই ফলস্বরূপ, ১১৫.১৭ পয়েন্ট ঝুলিতে নিয়ে তিনি ফিডে সার্কিট ২০২৫-এর পয়েন্ট তালিকায় প্রথম স্থানটি নিজের নামে করলেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের অনীশ গিরি এবং তৃতীয় স্থানে উজবেকিস্তানের নর্দিক আব্দুসাত্তারভ।
প্রজ্ঞানন্দর এই সাফল্য নিশ্চিত হয় লন্ডন চেজ ক্লাসিক ওপেনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। এই ইভেন্টে ৮.১৭ সার্কিট পয়েন্ট সংগ্রহ করে তিনি আগামী বছরের অভিজাত ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে প্রবেশের ছাড়পত্র জোগাড় করেন।
একমাত্র ভারতীয় পুরুষ প্রতিনিধি
রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ একমাত্র ভারতীয় পুরুষ দাবাড়ু হিসেবে ২০২৬ ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চলেছেন। আটজনের মধ্যে সপ্তম প্রতিযোগী হিসেবে তিনি এই প্রতিযোগিতায় নিজের জায়গা পাকা করলেন। এর আগে অনীশ গিরি, ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানা, ম্যাথিয়াস ব্লুবায়ুম, জাভোখির সিন্দারভ (কনিষ্ঠ বিশ্বজয়ী), ওয়েই জি, এবং আন্দ্রে এসিপেঙ্কো এই টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
যদিও লন্ডন চেজ ক্লাসিক ওপেনে উজবেক গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুসাত্তারভ সর্বোচ্চ ১৯.৬২ সার্কিট পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু প্রজ্ঞানন্দর বছরভর সামগ্রিক পারফরম্যান্স (সার্বিক ট্যালি) তাঁকে শীর্ষস্থানে পৌঁছতে সাহায্য করে।
পুরুষদের সঙ্গী মহিলা ব্রিগেড
প্রজ্ঞানন্দর ক্যান্ডিডেটসে পৌঁছনোর বিষয়টি চলতি বছর তাঁর বিভিন্ন সাফল্যের উপর নির্ভর করছে। যার মধ্যে রয়েছে টাটা স্টিল চেজ মাস্টার্স, সুপারবেট চেজ ক্লাসিকে খেতাব জয়, এবং উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চেজ মাস্টার্স টুর্নামেন্টে জয়লাভ। যদিও বিশ্বকাপে তিনি চতুর্থ রাউন্ডে বিদায় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই ব্যর্থতা তাঁর ক্যান্ডিডেটসে প্রবেশের পথে বাধা হয়নি।
পুরুষ বিভাগে প্রজ্ঞানন্দ একা হলেও, মহিলা বিভাগে অবশ্য ক্যান্ডিডেটসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন তিন গ্র্যান্ডমাস্টার—বিশ্বজয়ী দিব্যা দেশমুখ, বিশ্বকাপে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী কোনেরু হাম্পির পাশাপাশি প্রজ্ঞানন্দর দিদি আর বৈশালী।