সোমবার লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর (Vande Mataram) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনায় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা (Priyanka Gandhi Vadra) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) কথা মাথায় রেখেই সরকার সংসদে এই ‘অতীতের’ ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করছে।
🎯 বর্তমান সমস্যা থেকে মন ঘোরাতেই এই আলোচনা!
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার দেশের বর্তমান সমস্যাগুলি থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অতীতের ঘটনাগুলির দিকে নিয়ে যেতে চাইছে।
তিনি বলেন, “সংসদে জাতীয় গান নিয়ে আলোচনা চলছে, যা একটি বড় আবেগ। এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি আমাদের সাহস, শক্তি এবং নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এর সামনে মাথা নত করেছিল।”
বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই গানটি ১৫০ বছর ধরে জাতির আত্মার অংশ। এটি দেশের মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে রয়েছে। আজ কেন এটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে জানান? এর উদ্দেশ্য কী? আসলে বাংলার নির্বাচন আসন্ন। সে কারণেই এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।”
📜 মোদীর তথ্য ভুল ধরিয়ে দিলেন প্রিয়াঙ্কা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ১৮৯৬ সালে প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গেয়েছিলেন। এই তথ্যটি শুধরে দিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আক্রমণাত্মক সুরে বলেন:
“আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভাষণ ভালোই দেন, যদিও একটু দীর্ঘ হয়। উনি বলেছেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালে প্রথমবার বন্দে মাতরম গানটি গান। যেটা উনি বললেন না তা হলো, যেখানে গুরুদেব গান গেয়েছিলেন, সেটি ছিল কংগ্রেসের সভা।“
🛡️ নেহেরুর পক্ষ নিলেন প্রিয়াঙ্কা, জবাব দিলেন নেতাজির কথায়
‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভেঙে টুকরো করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের সভায় জওহরলাল নেহেরুকে (Jawaharlal Nehru) দায়ী করেছিলেন। এর জবাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মোদীর দাবিকে উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর দুটি প্যারা বাদ দেওয়া নিয়ে সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে:
-
সংবিধান নির্মাতাদের যুক্তি: প্রিয়াঙ্কা বলেন, “বাবাসাহেব আম্বেদকর থেকে শুরু করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সকলেই বন্দে মাতরমের দুটো প্যারাগ্রাফই গ্রহণ করেছিলেন।”
-
নেতাজির উল্লেখ: প্রধানমন্ত্রী কেবল নেহরুর চিঠি পড়লেও, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) প্রসঙ্গ কেন উল্লেখ করলেন না, সেই প্রশ্ন তোলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি মনে করিয়ে দেন, “নেতাজি তো গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরামর্শ করার কথা উল্লেখ করেছিলেন।”
গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং জানিয়েছিলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি প্যারার সঙ্গে আনন্দমঠে থাকা বাকি অংশের সংযোগ তেমনভাবে নেই, তাই সেটি আলাদা করে গ্রহণ করা যেতেই পারে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই পাল্টা যুক্তি লোকসভায় বিতর্কের নতুন মোড় এনে দিল।