‘এত ভীতু হলে চলবে না, অ্যাকটিভ হন!’ পুলিশকে কড়া ধমক মমতার, নাকা চেকিং নিয়ে গোপন লেনদেনের ইঙ্গিত?

প্রায় এক বছর পর কোচবিহার (Cooch Behar) সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি রাজ্য পুলিশের কর্তাদের সতর্ক করে দিলেন। সোমবার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও ‘সাহসী’ এবং ‘সক্রিয়’ হতে হবে। নাম না করেই কেন্দ্রীয় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF)-এর বিরুদ্ধেও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।

🚨 ‘এত ভীতু হলে চলবে না, অ্যাকটিভ হন!’

রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এত ভীতু হলে চলবে না, মারপিট করতে বলছি না, খুন খারাপি করতে বলছি না! প্রো অ্যাক্টটিভ হন। নাকাচেকিং ঠিক করে করুন।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, সীমান্তের এলাকা দিয়ে প্রচুর বেআইনি লেনদেন চলছে। এই লেনদেনের সঙ্গে সমালোচনাকারীদের যোগ থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রচুর লেনদেন হচ্ছে বর্ডার দিয়ে। যাঁরা বেশি সমালোচনা করেন, তাঁরাই এটা খেয়ে যান! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!”

🛑 বিএসএফ এবং পুশব্যাক নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিএসএফ-এর (BSF) ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, রাজ্য পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে বিএসএফ কীভাবে রাজ্যের বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে?

  • পুশব্যাক ইস্যু: মুখ্যমন্ত্রী সোনালি খাতুনদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ঘটনা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, “অনেকে বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশে পুশব্যাক হচ্ছে। লোকাল পুলিশ কী করছে? আপনাদের হাতের নাগাল থেকে কী ভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে?” তিনি দাবি করেন, এখনও চারজন ভারতীয় বাংলাদেশে রয়েছেন।

  • এনআরসি নোটিস: চলতি বছরে উত্তমকুমার ব্রজবাসী নামে এক রাজবংশী বাসিন্দাকে গুয়াহাটি থেকে ডাকযোগে এনআরসি (NRC) নোটিস পাঠানোর প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমরা কোনও বৈষম্য, ভেদাভেদ মানি না। অনেক রাজবংশীকে অসম থেকে নোটিস ধরানো হয়েছিল। আমরা প্রতিবাদ করেছি।”

⚖️ ‘সাধারণ মানুষ আর ক্রিমিনাল এক নয়’

মুখ্যমন্ত্রী সাফ নির্দেশ দেন, অন্য রাজ্য থেকে এসে যেন কেউ রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে কাউকে গ্রেফতার করে নিয়ে না যায়। নাম না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরকে নিশানা করে তিনি বলেন, “কোনও ক্রিমিনালকে অ্যারেস্ট করতে হলে স্টেট গভমেন্টের সঙ্গে কথা বলুন। আমরা নিশ্চয়ই ক্রিমিনালদের অ্যালাউ করব না। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর ক্রিমিনাল এক নয়। কাউকে ক্রিমিনাল দাগিয়ে দেওয়ার আগে দেখতে হবে যে সে ক্রিমিনাল কি না।”

তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “বাংলায় কথা বললেই সবাইকে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লোকাল পুলিশরা কী করছেন? আপনাদের হাতের নাগাল থেকে কী করে নিয়ে যাচ্ছে?” পুলিশকে নির্ভয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সীমান্ত এলাকায় নাকাচেকিং কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকের পর জনসভায় তাঁর বক্তব্য কী হয়, সেই দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy