সংবাদমাধ্যমের জন্য যেখানে কঠোর বিধিনিষেধ, সেখানেই বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে অবাধ প্রবেশ শাসক দলের মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রথম সারির নেতাদের। সুরক্ষার বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি চলছে প্রসূতি বিভাগে প্রবেশ, ছবি তোলা এবং ভিডিওগ্রাফি। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সামনেই এই চরম স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। প্রসূতি এবং সদ্যোজাতদের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও কর্তৃপক্ষ নীরব।
ঘটনার সূত্রপাত, দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক হওয়া অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুনকে ভারতে ফেরানোর পর। শুক্রবার মালদার মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরালে শনিবার দুপুরে তাঁকে মালদা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বীরভূমের পাইকরের বাড়িতে আনা হয়। ওই দিনই অন্তঃসত্ত্বা সোনালীকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে সোনালীকে দেখতে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে।
ভিআইপি দাদাগিরি ও ফটোশ্যুট
জানা গিয়েছে, প্রথমে হাসপাতালে যান বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে প্রসূতি বিভাগে প্রবেশ করেন। সেই সময় হাসপাতালের এমএসভিপি (MSVP) পলাশ দাসও উপস্থিত ছিলেন। এরপর হাসপাতালে যান লাভপুরের বিধায়ক রানা সিং এবং তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল সহ ছোট-বড় মাপের নেতা-নেত্রীরা। প্রত্যেকেই ভিডিও এবং স্টিল ছবি তুলে সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন। অভিযোগ, যেখানে সংবাদমাধ্যমকে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’ বলে বারবার বাধা দিচ্ছে, সেখানে ‘তৃণমূল করলে ছাড়’-এর মতো দ্বিচারিতা চলছে।
বিজেপি-র তোপ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল। তিনি বলেন, “সোনালী খাতুনের চিকিৎসা চলছে, এটা আনন্দের খবর। কিন্তু প্রসূতি বিভাগে প্রবেশের কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা অবাধে ঢুকছেন। এর ফলে সংক্রামণ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রসূতিদের সম্ভ্রম বে-আব্রু হয়ে পড়ছে। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং কর্তব্যরত পুলিশ দায়ী। অবিলম্বে এই প্রবণতা বন্ধ না হলে আমরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব।”
এদিকে, প্রসূতি বিভাগে অবাধ প্রবেশের এই চরম অনিয়মের কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতালের এমএসভিপি পলাশ দাস। তিনি বলেন, “অন্যায় হচ্ছে। এভাবে প্রসূতি বিভাগে অবাধ প্রবেশ করা যায় না। ওই বিভাগে মায়েদের সুরক্ষা এবং সম্ভ্রম দুটোই সুরক্ষিত রাখা উচিত। আমরা আরও সতর্ক হব।” কিন্তু কর্তৃপক্ষ সতর্ক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ভিআইপি প্রবেশ ও ফটোশ্যুটের ছবি ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল।