সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন বাংলার চাকরির বাজারের খতিয়ান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূল সাংসদেরা। শনিবার নয়াদিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভা সাংসদ শতাব্দী রায়।
বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় দাবি করেন, গত ১৪ বছরে অর্থাৎ ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলায় এক লক্ষের অধিক নতুন সংস্থা নিজেদের রেজিস্টার করেছে। এই সময়কালে রাজ্যে নতুন সংস্থা আগমনের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শতাব্দী রায় বলেন, “বাংলা মানে যে ব্যবসা, সেই প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। বাংলায় প্রতি বছর ৭ হাজার ৫০০টির মতো নতুন সংস্থা বিনিয়োগ করছে। এমনকি, গত পাঁচ বছরে এই বাংলাতেই ৪০ হাজার নতুন সংস্থা গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রেও বাংলা এগিয়ে রয়েছে।”
পরিসংখ্যান কেন জরুরি হলো?
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, রাজ্যের চাকরির বাজারের এই খতিয়ান তুলে ধরার মূল কারণ হলো—সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়া।
-
নির্মলার খোঁচা: গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় একটি বিল পেশের সময় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষকে ‘বঙ্গ-ত্যাগী সংস্থার’ তালিকা তুলে ধরে বিঁধেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি অভিযোগ করেন, “তৃণমূলই বাংলার বিকাশে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত ১৪ বছরে বাংলা ছেড়েছে মোট ৬ হাজার ৮৯৫টি সংস্থা।”
-
বিজেপির প্রশ্ন: সম্প্রতি কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রককে করা বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের একটি প্রশ্নের উত্তরেও ‘বঙ্গ-ত্যাগী সংস্থা’-র খতিয়ান উঠে এসেছিল।
নির্মলা ও বিজেপি সাংসদের উত্থাপিত এই পরিসংখ্যানগুলির পাল্টা হিসেবেই তৃণমূলের দুই সাংসদ বাংলার ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ তুলে ধরেছেন। এছাড়া, দুই সাংসদ কেন্দ্র একশ দিনের কাজের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ জানান।