আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতিতে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’ (মিম/AIMIM)। বিশেষ করে মালদহে মিমের এই তৎপরতা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিমের প্রচারের মূল সুর:
মিমের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মুসলিমদের বোঝানো হচ্ছে যে, রাজ্যের শাসক দল বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে। দলীয় কর্মীরা প্রচার করছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস বারবার মুসলিমদের রান্নায় ব্যবহৃত ‘তেজপাতার মতো ব্যবহার করেছে’— অর্থাৎ প্রয়োজন শেষে ফেলে দিয়েছে। এবার মুসলিমদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজ্যের সরকার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার ডাক দিচ্ছে মিম।
সাংগঠনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে:
মালদহ জেলায় একেবারে নীচুস্তর থেকে সংগঠন তৈরিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে মিম। গ্রামে গ্রামে বহু মানুষ যোগদান করছেন এবং বুথ ভিত্তিক কমিটি তৈরি হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সক্রিয়তার পাশাপাশি, মিম সুপ্রিমো আসাউদ্দিন ওয়াইসির মালদহে জনসভা করার প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
মালদহে মিমের এই হঠাৎ সক্রিয়তা কি রাজ্যের ভোটে কোনও বড় প্রভাব ফেলবে? এই প্রশ্নে মুখ খুলেছে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই।
-
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যদিও মিমের প্রভাবকে প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ, তবে এই ধরনের প্রচার যে তাদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিভাজন ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
-
অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ মনে করছে মিমের সক্রিয়তা রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে থাকা সংখ্যালঘু ভোটকে একত্রিত করতে পারে এবং ভোটবাক্সে তার প্রভাব স্পষ্ট হবে।
ওয়াইসির মালদহ সফর এবং তার আগে মিমের এই প্রচার কৌশল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।