হরিয়ানার পানিপথে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ পুনম নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে, যিনি ঈর্ষা এবং মানসিক অসুস্থতার কারণে নিজের ছেলেসহ চারটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই মহিলা বিশেষভাবে ‘সুন্দর’ বা আকর্ষণীয় শিশুদের টার্গেট করতেন এবং তাদের বাথটাব, সিঙ্ক বা ছোট পাত্রের জলে ডুবিয়ে হত্যা করতেন।
🔎 ধরা পড়ার প্রক্রিয়া
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের জট খোলে ১ ডিসেম্বর নওলথা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। সেখানে ছ’বছরের এক শিশুকন্যা বিধিকে একটি বাথটাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পানিপথের পুলিশ সুপার ভূপেন্দ্র সিং জানান, বাথটাবটি শিশুর তুলনায় যথেষ্ট ছোট হওয়ায় এটিকে দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দেয় পুলিশ। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পুনমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুনম তার অপরাধ স্বীকার করেন। সে শুধু বিধিকেই নয়, এর আগেও আরও তিনটি শিশুকে খুন করেছে বলে জানায়, যার মধ্যে একটি ছিল তার নিজের ছেলে।
🧠 ‘আমিই সবচেয়ে সুন্দরী’: ঘাতকের মানসিকতা
পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত পুনম মানসিকভাবে অসুস্থ এবং সৌন্দর্যের প্রতি তার অতিমাত্রায় ঈর্ষা ছিল।
“সে বিশ্বাস করত, তার চেয়ে সুন্দর আর কেউ থাকা উচিত নয়। সুন্দর শিশুদের দেখলেই তার হৃদয়ে রাগ জ্বলে উঠত এবং তারপর সে হত্যার পরিকল্পনা করত।” – ভূপেন্দ্র সিং, পুলিশ সুপার, পানিপথ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, খুনের পর পুনম অস্বাভাবিক আনন্দ প্রকাশ করত। সে স্বীকার করেছেন যে, সুন্দর শিশুর প্রতি তার ঈর্ষা তাকে এই ভয়াবহ কাজ করতে প্ররোচিত করত।
🔪 চারটি হত্যার ঘটনা: যেভাবে চলত হত্যাকাণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুনম বিগত বছরগুলিতে চারটি শিশু হত্যা করেছে, যাদের সবারই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল—তারা ছিল ‘মনোযোগ আকর্ষণকারী’।
২০২৩ সাল: সোনিপতের বোহাদ গ্রামে শ্যালিকার মেয়েকে জলের ট্যাঙ্কে ডুবিয়ে হত্যা। এরপর সন্দেহ এড়াতে নিজের ছেলেকেও একইভাবে হত্যা করে।
২০২৫ সাল: সিওয়াহ গ্রামে মাতৃগৃহে এসে আবার নিজের ভাগ্নিকে একই পদ্ধতিতে হত্যা করে।
পদ্ধতি: প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে সে অত্যন্ত চতুরতার সাথে দুর্ঘটনা বলে দাবি করত।
দ্রুত তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সিআইএ-ওয়ান টিম মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই জটিল ও স্পর্শকাতর কেসটির সমাধান করেছে। বর্তমানে মহিলা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ আরও তদন্ত করছে যে, পুনম অন্য শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছিল কিনা।