ক্যান্সার জয় করে ১১ বছর পর বাংলা ধারাবাহিকে ফিরলেন পাপিয়া সেন, বললেন, ‘বাড়িতে থাকলে বরং একা থাকতাম’

মাত্র সাত বছর বয়স থেকে মঞ্চে অভিনয়, পিতৃকূল ও পতিকূল দুই দিকেই ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় মানুষের যোগসূত্র। কথা হচ্ছে অভিনেত্রী পাপিয়া সেনকে (Papiya Sen) নিয়ে, যিনি ক্যান্সারকে জয় করে দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলা ধারাবাহিকে ফিরেছেন। ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে তিনি প্রিয় ‘ঠাম্মি’র চরিত্রে অভিনয় করছেন।

অভিনেত্রীর ফিরে আসা নিয়ে কাজের পরিবেশে কতটা পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে পাপিয়া সেন জানান, অনেকেই তাঁকে সতর্ক করেছিলেন—”এখন সিরিয়ালে জয়েন করছ? তুমি মানিয়ে নিতে পারবে না।” কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা একেবারে অন্যরকম।

“সত্যিই আমার এখানে এলে একটা দিনের জন্যও মনে হয় না যে আমি বাড়িতে নেই। মনে হয় যেন বাড়িতেই আছি। সকলে এতটাই আন্তরিক।”

‘একঝাঁক নাতি-নাতনি’র সান্নিধ্য:

পাপিয়া সেন জানান, বাড়িতে তাঁর মেয়েরা এবং নাতনিরা সবাই বিদেশে থাকেন। বাড়িতে বরং তিনি একাই থাকতেন। কিন্তু সেটের পরিবেশ তাঁকে সেই একাকীত্ব ভুলিয়ে দিয়েছে:

  • “এখানে এলে আমি অনেক নাতি নাতনি পেয়ে যাই। সবাই ডেকে ডেকে কথা বলে আমাকে। জিজ্ঞেস করে কেমন আছি। অনেকে আবার আমার শরীর খারাপ লাগছে মনে হলে পরিচালককে বলে, দিদিকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দাও। এই আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।”

  • তিনি বলেন, “এখানে এক ঝাঁক নাতি-নাতনিদের পেয়ে যাই। তা ছাড়াও ছেলে, বউমা সকলকে পাই। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে এতদিন পর ফিরে আমি সত্যিই ধন্য। আর এই হাউজ বরাবরই খুব সম্মান দেয়। তাই না করিনি অফারটা আসায়।”

ক্যান্সার জয় ও শৈশবের স্মৃতি:

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর বোন এবং পরিচালক রাজা সেনের স্ত্রী পাপিয়া সেন ২০১৮ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই মারণ রোগকে তিনি অসম্ভব জীবনী শক্তির জোরে জয় করে আজ সুস্থ। অসুস্থতা ছাড়াও জীবনে নাতনিদের আগমনও তাঁকে কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে রেখেছিল। তখন তিনি স্বামীর কাজের হিসেব-নিকেশের দিক সামলাতেন।

ধারাবাহিকের নায়িকা লাজু (সাইনা) সম্পর্কে তিনি বলেন, “লাজু খুব ইন্টেলিজেন্ট। শুটিঙের ফাঁকে পড়াশুনাও করে। কিছু বুঝতে না পারলে জিজ্ঞেস করে। ওকে কাজের ফাঁকে পড়তে দেখে আমি আমার শৈশব খুঁজে পাই।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy