কলকাতা (Kolkata) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় বা সেকেন্ডারি রানওয়ের (Secondary Runway) মুখে অবস্থিত একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিতর্ক আবারও তুঙ্গে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজারহাটের দিক থেকে আসা কোনও বিমানের জরুরি অবতরণের (Emergency Landing) সময় মসজিদের সঙ্গে ধাক্কা লাগার গুরুতর সম্ভাবনা রয়েছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন অল্প ক’জনের ধর্মীয় প্রয়োজনে লক্ষাধিক যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে?
রাজ্য BJP সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি এই বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলেছেন। বিমানমন্ত্রীর কাছে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন ছিল: মসজিদটির কারণে এখনও কি সেকেন্ডারি রানওয়ে পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না? যদি তা-ই হয়, তবে বহু বছর ধরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও কেন এটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না? বিমানমন্ত্রীর উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি এই জবাবে ‘অসন্তুষ্ট’।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২৪ সালে বিমানবন্দর তৈরির সময় জমি অধিগ্রহণের ফলেই মসজিদটি সেখানেই থেকে যায়। পরবর্তীকালে রানওয়ে সম্প্রসারণের সময় দেখা যায়, নতুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ঠিক মুখের দিকেই এর অবস্থান। নব্বইয়ের দশক থেকেই মসজিদটি সরানোর আলোচনা চললেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
৯/১১ হামলার পরে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পরও কলকাতার পরিস্থিতি বদলায়নি। এখনও প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ জন বাসিন্দা বিশেষ নিরাপত্তা প্রক্রিয়া মেনে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে প্রার্থনা করেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান সমস্যাগুলি: ১. রানওয়ের পাশে অত্যাবশ্যক আইএলএস (ILS) যন্ত্র বসানো যাচ্ছে না। ২. রানওয়ে বাড়ানোয় বাধা তৈরি হচ্ছে। ৩. রাজারহাট দিক থেকে জরুরি অবতরণের সময় বিমানের ধাক্কা লাগার গুরুতর ঝুঁকি। ৪. আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে ছাড় দিতে হচ্ছে। ৫. রানওয়ের শেষ থেকে ২৫০ মিটার খালি জায়গার (Safety Area) নিয়ম মানা সম্ভব হচ্ছে না।