এসআইআর (Summary of Information Report) বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে এই সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ প্রায় শেষের পথে। তবে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের হাতে এল একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, বাংলার এমন প্রায় ২,২০৮টি বুথ রয়েছে, যেখানে গত এক বছরে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো তথ্যেই এমনটা বলা হয়েছে বলে রাজ্যের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক দাবি করেছেন।
‘আনকালেক্টেবল’ ফর্ম নেই কেন?
যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, এই ২,২০৮টি বুথে যত সংখ্যক গণনা ফর্ম বিতরণ করা হয়েছিল, তার সবকটিই ফেরত এসেছে। অর্থাৎ, এই বুথগুলিতে কোনো মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। একটিও ফর্ম ‘Uncollectable’ নেই।
‘Uncollectable Form’ কী?
মূলত চারটি ক্ষেত্রে ‘আনকালেক্টেবল’ ফর্ম থাকে। সেগুলি হল:
যদি কোনো ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে।
যদি কোনো ডুপ্লিকেট নাম (একাধিক জায়গায় নাম) থাকে।
আনট্রেসেবল ভোটার (যে ভোটারদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না)।
পার্মানেন্টলি শিফটেড ভোটার (পাকাপাকিভাবে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছেন)।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, অন্যান্য ক্ষেত্রে অসঙ্গতি মানা গেলেও, গত এক বছরে এই বুথগুলিতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি—এটা কার্যত অসম্ভব ও অবিশ্বাস্য।
জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট তলব:
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সমস্ত জেলাশাসকদের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই রিপোর্ট এলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।
মৃত ভোটার না-থাকার জেলাভিত্তিক তালিকা:
এই ধরনের বুথ যে সমস্ত জেলায় অপেক্ষাকৃত বেশি, তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৭৬০টি বুথ)। এরপর রয়েছে পুরুলিয়া (২২৮), মুর্শিদাবাদ (২২৬), মালদা (২১৬), নদিয়া (১৩০), বাঁকুড়া (১০১), হাওড়া (৯৪), পূর্ব মেদিনীপুর (৯০), বীরভূম (৮৬), উত্তর ২৪ পরগনা (৮২), জলপাইগুড়ি (৫৬), হুগলি (৫৪), দক্ষিণ দিনাজপুর (৪০), পশ্চিম মেদিনীপুর (১৫), উত্তর দিনাজপুর (১১), পূর্ব বর্ধমান (৯), আলিপুরদুয়ার (৩), কোচবিহার (২), দার্জিলিং (২), কালিম্পং (১), উত্তর কলকাতা ও পশ্চিম বর্ধমানে (১টি করে)।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়া সাত দিন পিছিয়ে দিয়েছে। ৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এনুমারেশন ফর্ম আপলোডের সময়সীমা বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর করা হয়েছে।