এসআইআর (Summary of Information Report) বা তথ্য সারসংক্ষেপ রিপোর্ট ইস্যুতে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন। তাঁর বক্তব্য, জেলাশাসকদের ভয় দেখানো হচ্ছে যে তাঁদের ‘দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হবে’ বা সাসপেন্ড করা হবে। এই পরিস্থিতিতে, সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত জেলাশাসককে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
সোমবার মুখ্যসচিবের সঙ্গে রাজ্যের সকল জেলাশাসকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বৈঠক ছিল। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপ্রত্যাশিতভাবে সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। সেখানেই তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নাম না করে কড়া বার্তা দেন।
বিশেষ অফিসারের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ:
জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্য সরকারেরই এক প্রাক্তন অফিসারকে ‘স্পেশ্যাল রোল অফিসার’ হিসাবে পাঠিয়েছে। সেই অফিসার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে ফোন করে জেলাশাসকদের বদলি বা সাসপেন্ড করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের স্পষ্ট বার্তা দেন, তাঁরা যেন কোনোভাবেই ভয় না পান। তিনি প্রত্যেক জেলাশাসকের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।
প্রাক্তন আইএএস সুব্রত গুপ্তকে নিয়ে গুঞ্জন:
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তের নাম না করেই ইঙ্গিত দেন। রেকর্ড বলছে, সুব্রত গুপ্ত যখন বাংলায় আইএএস অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন তাঁকেই এসআইআর-এর ‘স্পেশ্যাল রোল অফিসার’ হিসাবে নিয়ে এসেছে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে সুব্রত গুপ্তের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের উদ্দেশে বলেন, কাজের চাপ ও নানা ধরনের চাপ রয়েছে, তা সত্ত্বেও উন্নয়নের কাজে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
বিজেপি-র প্রতিক্রিয়া:
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরাও এই ধরনের খবর সূত্র মারফত পাচ্ছিলাম যে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রভাবিত করার জন্য জেলাশাসক-সহ অনান্য অফিসারদের এই ধরনের কথা বলছেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি যে কাজ করলেন, তা বিরল। এটা যদি সত্যি হয়, এসআইআর নিরপেক্ষ হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকল না। এসআইআর-কে প্রভাবিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন।”