কর্মচারীদের পেনশন স্কিম (Employees’ Pension Scheme – EPS-95) নিয়ে লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইপিএস-৯৫ স্কিমের তহবিল গঠনে নিয়োগকর্তা এবং কেন্দ্রীয় সরকার—উভয়েরই যৌথ অনুদান থাকে।
তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে তহবিলের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফান্ডের মূল্যায়নে অ্যাকচুয়ারিয়াল ঘাটতি (Actuarial Deficit) ধরা পড়েছে।
১,০০০ টাকা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ:
ফান্ডে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকার পেনশনভোগীদের একটি বড় আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে সকল পেনশনভোগীর জন্য ন্যূনতম মাসিক ১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত করতে আলাদা বাজেট বরাদ্দ করছে।
শোভা করন্দলাজে বলেন, “ইপিএস-১৯৯৫ হলো একটি ‘ডিফাইন্ড কনট্রিবিউশন-ডিফাইন্ড বেনিফিট’ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। নিয়োগকর্তা ৮.৩৩ শতাংশ এবং কেন্দ্র সরকার ১.১৬ শতাংশ বাজেট সহায়তা দেয়। সুবিধা দেওয়া হয় এই সঞ্চিত তহবিল থেকে। তবে ঘাটতি সত্ত্বেও শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তহবিলের আর্থিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের দায় বিবেচনা করে।”
আন্দোলনের মুখে সরকার:
এদিকে, ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। গত মাসে অল পেনশনার্স রিটায়ার্ড পার্সনস অ্যাসোসিয়েশন ইপিএস-৯৫-এর ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৯,০০০ টাকা করার দাবি তোলে। প্রতি বছর ১৬ নভেম্বর তারা ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে পালন করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিশাখাপত্তনমের মারিপালেম আঞ্চলিক পিএফ দফতরের সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বর্তমানে পুরনো মজুরি সীমার কারণে অধিকাংশ পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন এখনো ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকার এখনও পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি ঘোষণা না করলেও, মন্ত্রীর বক্তব্য ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, পরবর্তী বাজেটে কর্মীদের দাবি কতটা পূরণ হয়।