সিঁথিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জিতকুমার দাসের কাছ থেকে দু’কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা লুটের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত মাসুমবাবু মল্লিককে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর কর্ণাটকের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত হুগলির বাসিন্দা।
কর্ণাটকে আত্মগোপন, বিশেষ দল পাঠিয়ে গ্রেফতার
পুলিশ জানিয়েছে, গত অক্টোবরে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের সোনা লুটের ঘটনার পরেই মাসুমবাবু মল্লিক পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং নিজেকে গোপন রাখতে কর্ণাটকে আশ্রয় নেন। খবর পেয়েই কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে পৌঁছায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রথমে তাঁকে আটক করা হয়। পরে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
গোয়েন্দা প্রধানের মন্তব্য: কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানান, “সোনা লুটের মতো বড় একটি ঘটনার পেছনে সাধারণত সুসংগঠিত চক্র থাকে। আমরা ধৃতদের জেরা করে সোনার পুরো হদিশ পেতে চাই।”
তদন্তের জাল: সইদুলের স্বীকারোক্তিতে মাসুমের নাম
এই ঘটনায় এর আগেই গ্রেফতার হয়েছিল হুগলির বাসিন্দা সইদুল মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, সইদুলকে জেরা করেই মাসুমের জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের যোগাযোগ ছিল এবং পরিকল্পনা করেই তাঁরা এই লুটের চেষ্টা করেন। পুলিশের অনুমান, এই চক্রে আরও কয়েকজন পেশাদার অপরাধী জড়িত রয়েছে।
অমীমাংসিত প্রশ্ন: লুট হওয়া সোনা কোথায়?
পরিকল্পনার পেশাদারি: পুলিশ মনে করছে, লুটের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত পেশাদারি, যা এই চক্রের অপরাধ জগতে পুরনো অভিজ্ঞতাকেই ইঙ্গিত করে।
তল্লাশি অভিযান: এই সাফল্যের পরেও একটি বড় প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত— লুট হওয়া বাকি সোনা কোথায়? পুলিশ জানতে পেরেছে, সোনার একটি অংশ লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল। সেই সোনার হদিশ পেতে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার কয়েকটি জায়গায় জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে বড়বাজার থেকে সোনার বাট কিনে ফেরার পথে সিঁথিতে ব্যবসায়ীর পথ আটকানো হয়েছিল। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সোনার বস্তা ছিনিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সইদুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই চলছে এই তদন্ত।