কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে তিনি ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Sathi) অ্যাপকে ‘গুপ্তচর অ্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে এই পদক্ষেপ দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ারই অংশ।
বাধ্যতামূলক অ্যাপ এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘন:
কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, সমস্ত স্মার্টফোনে সঞ্চার সাথী অ্যাপটি বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-ইনস্টলড থাকতে হবে এবং এটি ফোন থেকে ডিলিট বা ডিসেবল করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, “আপনারাই বুঝতে পারছেন এই অ্যাপের কাজ কী হবে। দেশের নাগরিকদের তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার রয়েছে। আপনাদের সকলেরই অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত মেসেজ পরিবার, বন্ধুকে পাঠানোর, যার উপর কেউ নজরদারি করতে পারবে না।”
স্বৈরতন্ত্র ও পেগাসাস বিতর্ক:
প্রিয়ঙ্কা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, এই অ্যাপ শুধুমাত্র চরবৃত্তির কাজ করবে না, বরং “সব মিলিয়ে এরা দেশকে সব দিক দিয়ে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
স্বাভাবিকভাবেই, সঞ্চার সাথী অ্যাপটি জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী পেগাসাস (Pegasus) বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছিল।
সংসদ অচল হওয়ার কারণ:
সংসদ অচল হওয়ার প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “আসলে ওরা চায়ই না, সংসদে মানুষের কথা উঠুক। এটা কোনো গণতন্ত্রই নয়।” তিনি স্বীকার করেন যে দেশে সাইবার নিরাপত্তার অবশ্যই প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সরকার সকল নাগরিকের ফোনে আড়ি পাতবে। তিনি যোগ করেন, “আমার মনে হয় না, দেশের কোনো মানুষ এতে খুশি হবেন।”
কেরলের ওয়ানাড়ের সাংসদ (ভিডিওতে এমন উল্লেখ আছে) হিসেবে তিনি জোরের সঙ্গে দাবি করেন, ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনকে এই পদক্ষেপ থেকে পিছু হটতেই হবে। দলীয় অবস্থান নিয়েও আজ আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।