এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর মধ্যেই ফের একবার বিস্ফোরক অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ফলতায় মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিয়ো ক্লিপ পোস্ট করে তিনি এই অভিযোগ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অডিয়ো ক্লিপে ফলতার বিডিও (BDO) এবং এআরও (AERO)-কে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিতে শোনা যাচ্ছে যে, মৃত্যুর শংসাপত্র (Death Certificate) ছাড়া ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। তাঁর আরও গুরুতর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা ‘জাহাঙ্গির বাহিনী’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকারী বিএলও (BLO)-দের হাতে মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে বারণ করছে। এমনকি, বিএলও-দের বলা হচ্ছে, নাম বাদ দেওয়ার ফর্মগুলি আপলোড না করে সেগুলোকে ‘আনম্যাপিং’ করে ছেড়ে দিতে। কেন এমন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা।
অডিয়ো ক্লিপে যা শোনা গেল:
শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট করা অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের একটি অংশে শোনা যায়, “বিডিও বলেছেন, ডেথ কেসগুলো কেন দেখানো হচ্ছে না? আপনি তো লোকাল, আমিও তো বাড়ি গিয়ে দেখছেন নেই। তাহলে কার নির্দেশের অপেক্ষায় সেগুলো ডিজিটাইজ করছেন না? আপনি এখুনি ফোনে তুলে দিন। না হলে কিন্তু আমি বিএলও-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।” পরে অন্য একটি কথোপকথনে শোনা যায়, “আজ বিকাল তিনটে থেকে এআরও আর বিডিও ফোন করে বলছে, আপনি ডেথ সার্টিফিকেট না পেলে আপনি কী করে তুলছেন? যতই তার বাড়ির লোক বলুক মৃত। সার্টিফিকেট না পেলে একটাও তুলতে পারবেন না। আর উল্টে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বলে দিচ্ছে, কেউ ডেথ সার্টিফিকেট দিবি না।”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব:
এই অডিয়ো সামনে আসার পর তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এটা তো ঠিকই। একজন যদি এসে বলেন, আমার কাকা মারা গিয়েছেন, তাতে নির্বাচন কমিশনের কোনও অধিকার নেই, সেই নামটা বাদ দেওয়ার। ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া নাম বাদ দেওয়া যায় না। এটা ম্যানুয়ালে লেখা আছে।” তিনি আরও বলেন, “তিনটে আলাদা আলাদা ফর্ম রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী কিছু জানেন না। না জেনে হাওয়া গরম করছেন।”
উল্লেখ্য, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ক্ষোভ প্রকাশের পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিম ফলতা পরিদর্শন করেছিল। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ফলতার বিডিও-র সঙ্গে বৈঠকও করেন। কিন্তু তারপরেও শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক চাপান-উতোর সৃষ্টি করল।