পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR – Special Integrated Revision) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমনই একজন হলেন সাতক্ষীরার হাসিনা, যিনি আড়াই বছর আগে দালালকে টাকা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন এবং উত্তর ২৪ পরগনার বামনগাছি রেল লাইনের ধারে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে কাজ না পাওয়ায় আড়াই বছর আগে তিনি দালালের মাধ্যমে এ রাজ্যে ঢোকেন। এত দিন তিনি বামনগাছির রেল লাইনের পাশে ঘর ভাড়া করে থাকছিলেন।
‘ফেরার সাহস পাচ্ছি না’:
সাংবাদিকদের কাছে হাসিনা স্বীকার করেন, “আড়াই বছর ধরে এখানে আছি। মিথ্যা কথা বলব না, আমার কোনো কাগজপত্র নেই। দালালের মাধ্যমে এসেছি। একা থাকি এখানে। তাই ফেরার সাহস পাচ্ছি না। ওখানে (বাংলাদেশে) কাজ করে সংসার চালাতে পারছিলাম না, তাই এসেছি।”
তবে বর্তমানে তিনি জানতে পেরেছেন যে ‘ক্যাম্পে ধরা দিলে, ফিরে যাওয়া যাচ্ছে’। সেই আশাতেই তিনি এখন স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন।
বেপাত্তা বহু পরিবার, বাড়ছে ফেরার সংখ্যা:
সূত্রের খবর, হাসিনার মতো আরও বহু অনুপ্রবেশকারী রেল লাইনের পাশে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই এমন কিছু পরিবার রাতারাতি বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে ফেরার সংখ্যাও বাড়ছে। স্বরূপনগরের হাকিমপুর ও তারালি সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই অনুপ্রবেশকারীদের অনেকে শুধু অবৈধভাবে ভারতে ঢোকেননি, বরং অবৈধভাবে এ দেশের পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন এবং ভোটে অংশগ্রহণ করে সরকারি সুবিধাও নিয়েছেন। SIR শুরু হতেই তাঁরা ভয় পাচ্ছেন যে পরে ধরা পড়লে তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। সেই ভয়েই অনেকে স্বেচ্ছায় সীমান্ত ক্যাম্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন।