‘বন্দে মাতরম’-নিয়ে সংসদে ১০ ঘণ্টা বিশেষ আলোচনা, প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন নিজে অংশ নেবেন?

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা, ‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে একটি বিশেষ আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচনার সময় ও তাৎপর্য

  • সময়কাল: চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

  • নেতৃত্ব: এই ঐতিহাসিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খোদ অংশ নেবেন।

  • লক্ষ্য: এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং এর অমর ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো। কেন্দ্রীয় সরকার গানের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্প্রতি এই গানটিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘অমর ঐতিহ্য’ বলে অভিহিত করে নতুন প্রজন্মের কাছে তা গাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক কৌশল ও বিরোধী অবস্থান

 

৩০ নভেম্বর সর্বদলীয় বৈঠকে এই আলোচনার প্রস্তাব জোরালো সমর্থন পেলেও, এটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

  • কংগ্রেসের দাবি: প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, অধিবেশনে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) বা BLO-দের কাজের চাপ নিয়ে আলোচনা করা হোক। তবে সরকার ‘বন্দে মাতরম’-এর আলোচনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

  • অন্যান্য বিরোধী: পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। আলোচনার রণকৌশল ঠিক করতে সোমবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

শীতকালীন অধিবেশন: অন্য কী আছে?

 

সোমবার, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন অধিবেশন চলবে ১৯ তারিখ পর্যন্ত। এই ১৫টি অধিবেশনের মধ্যে সরকারের তরফে দশটি নতুন বিল পেশ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক শক্তি, উচ্চশিক্ষা, জাতীয় সড়ক এবং বীমা খাত সংস্কার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিল রয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য অনুদানের জন্য প্রথম সম্পূরক দাবিগুলিও আলোচনার টেবিলে থাকবে।