বর্ধমানের লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় এবার একটি বিশেষ স্টল সকলের নজর কেড়েছে, যেখানে কোনো পত্রপত্রিকা বা বই বিক্রি হচ্ছে না। এটি হলো ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা, বর্তমানে কলকাতার শিক্ষক নবারুন মল্লিকের দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহশালা। এই ব্যতিক্রমী স্টলটি দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
বংশ পরম্পরায় সংগ্রাহকের নেশা:
নবারুন মল্লিকের এই সংগ্রহ কেবল তাঁর নিজের একক উদ্যোগ নয়, এই নেশা রয়েছে তাঁদের বংশ পরম্পরায়।
শুরুর কথা: নবারুন মল্লিক জানান, প্রথমে তিনি পুরনো মুদ্রা সংগ্রহ করতেন। পরে ধীরে ধীরে দাদু ও বাবার পথ ধরে তাঁর এই নেশা পরিণত হয় পুরনো বই, পত্রপত্রিকা, দলিল-সহ নানা কাগজপত্র সংগ্রহে।
সংগ্রহের বৈচিত্র্য: তাঁর ২০ বছরের সংগ্রহে রয়েছে পুরনো তালপাতার পুঁথি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন। তাঁর স্টলে গেলেই দেখা মিলবে ১৮৮৩ সালের ‘বঙ্গ দর্শনের’ দ্বিতীয় বছরের সংখ্যা এবং ১৯১৯ সালের ‘দ্য হিন্দু পেট্রিয়ট’-সহ আরও নানা ঐতিহাসিক দলিল ও বই।
উদ্যোগের উদ্দেশ্য:
নবারুন মল্লিকের মূল লক্ষ্য হলো পুরনোর মধ্যে নতুনকে খুঁজে বের করে সেই ঐতিহাসিক সম্পদ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
সংরক্ষণের পদ্ধতি: তিনি জানান, এই দুষ্প্রাপ্য সামগ্রীগুলি রাখতে হয় বিশেষ যত্নে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে গেলে ব্যবহার করতে হয় বিশেষ ধরনের ব্যাগ।
বিক্রি না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই ব্যতিক্রমী স্টল বর্ধমানের লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর সংগ্রহ কেবল সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে নয়, ইতিহাস সন্ধানী অসংখ্য মানুষের কাছেও এক বাড়তি পাওনা, যা আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।