অভাব আর সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে এক সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘বীরাঙ্গনা’ পুরস্কার জিতে নিয়েছে মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়ার ১৬ বছরের কিশোরী কাশ্মীরা খাতুন। শুধু নিজের বিয়েই নয়, বন্ধুদের বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, স্কুলছুট বাচ্চাদের স্কুলে ফেরানো সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজ করে সে ইতিমধ্যে স্থানীয়দের নজরে এসেছে। প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ে হয়েও তার এই অদম্য জেদ আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
মৌসুনি এলাকার বাসিন্দাদের মুখে মুখে ঘুরছে কাশ্মীরা খাতুনের এই লড়াইয়ের কথা। তার পরিবারে অভাব নিত্যসঙ্গী। সেই পরিস্থিতিতেই তার বিয়ের জন্য একাধিক প্রস্তাব আসে। কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাশ্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে নিজের বিয়ে আটকে দেয়।
বর্তমানে কাশ্মীরার বয়স ১৬ বছর এবং সে আরও পড়াশোনা করতে চায়। চোখে এখন তার নতুন স্বপ্ন—পুলিশের উর্দি পরা।
বাধা এসেছিল, হার মানেনি কাশ্মীরা:
প্রথমদিকে কাশ্মীরার এই সামাজিক কাজ ও বিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বাধা এসেছিল খোদ বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে। পরে প্রতিবেশীরাও তার পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও কিছুতেই থেমে থাকেনি কাশ্মীরার যাত্রা। সে দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও কিছু শেখা এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করার প্রক্রিয়ায় সে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।
এই সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘বীরাঙ্গনা’ পুরস্কার পেয়েছে কাশ্মীরা খাতুন। এই পুরস্কার পেয়ে সে যেমন খুশি, তেমনই খুশি মৌসুনি দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাশ্মীরা যে স্কুলে পড়ে, সেই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরিন্দম মাইতি এই পুরস্কারকে স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ‘উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কাশ্মীরার উজ্জ্বল জীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।