‘পুওর পশ্চার সিনড্রোম’, অবৈজ্ঞানিক চেয়ারে দীর্ঘক্ষণ বসে কুঁজো হচ্ছেন ৭০% অফিসকর্মী

দেশের সরকারি পুষ্টি সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশনের এক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—অফিসজীবীদের প্রায় ৭০ শতাংশই কাজের চাপে কুঁজো হয়ে যাচ্ছেন। দিনের প্রায় ছ’ঘণ্টা বা তার বেশি সময় যাঁরা চেয়ারে বসে কাজ করেন, মূলত তাঁদের মেরুদণ্ড নুয়ে পড়ছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন অসুখ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পুওর পশ্চার সিনড্রোম’ (Poor Posture Syndrome)। এর প্রধান উপসর্গ হল কাঁধে ও পিঠে অসহ্য ব্যথা।

সমস্যার মূল কারণ:

অস্থি বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করার অভ্যাসে এবং চেয়ারের অবৈজ্ঞানিক ডিজাইনে।

  • মেরুদণ্ডের উপর চাপ: অফিসের চেয়ারে সামনের দিকে ঝুঁকে একটানা কম্পিউটারে টাইপ করার ফলেই মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমন চলতে থাকলে শিরদাঁড়ার আকৃতি বদলে যায় এবং একদিন আচমকাই ব্যথা শুরু হয়।

  • রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা: ভুল বসার ভঙ্গি শরীরের রক্ত সঞ্চালনেও সমস্যা তৈরি করে।

  • পেশিতে চাপ: অবৈজ্ঞানিক চেয়ার হিপ ফ্লেক্সর, ইলিওপসাস পেশি এবং নিতম্বের বাটক মাসলে চাপ তৈরি করে। এই পেশিগুলি শিরদাঁড়াকে সোজা রাখতে সাহায্য করে।

❌ কী করবেন না?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, স্পাইনাল লিগামেন্ট একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই চাপ সহ্য করতে পারে। তাই:

  • টানা দেড় ঘণ্টার বেশি চেয়ারে বসে কাজ করা উচিত নয়।

  • অফিসের চেয়ার অবৈজ্ঞানিক হলে বা নড়বড়ে হলে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

  • চেয়ার যাই হোক, একটানা বসে থাকা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।

✅ মেরুদণ্ড সোজা রাখার উপায় ও নিয়ম:

  • নিয়মিত বিরতি: দেড় থেকে দু’ঘণ্টা বসে থাকার পর অবশ্যই উঠে হেঁটে আসুন বা সামান্য stretching করুন।

  • বসার সঠিক নিয়ম: মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করুন। চেয়ারে বসার সময়:

    • চোখকে কম্পিউটারের সঙ্গে এক মাত্রায় (eye level) থাকতে হবে।

    • কি-বোর্ড বুকের কাছাকাছি থাকতে হবে।

  • বিকল্প ব্যবস্থা: চিকিৎসকরা নিয়মিত আকুপ্রেসার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাড়িতে আকুপ্রেসার ফুটরোলার (Acupressure Footroller) রেখে সকালে ও রাতে পায়ে ঘষালে কোমর, ঘাড় ও হাঁটুর ব্যথা উপশম হতে পারে।

অস্থি বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং অবৈজ্ঞানিক চেয়ারে কাজ করার ফলেই ‘চুলে পাক ধরার আগেই হাতে লাঠি’ উঠে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।