‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ বলা যাবে না সংসদে? সংবিধান দিবসে রাজ্যসভার নিয়মকে চ্যালেঞ্জ মমতার, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি

সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই রাজ্যসভার অভ্যন্তরে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো স্লোগান দিতে না-দেওয়ার নির্দেশিকা নিয়ে সংবিধান দিবসে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিতর্কের সূত্রপাত:

গত বছর সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে ‘রাজ্যসভার সদস্যদের জন্য হ্যান্ডবুক’-এ একটি আচরণবিধি জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, সংসদের মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজ্যসভায় ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো একাধিক স্লোগান দেওয়া যাবে না। করা যাবে না চেয়ারম্যানের মন্তব্যের সমালোচনাও। এই নির্দেশিকা ঘিরেই তখন বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল, সংবিধানের আঁতুড়ঘর সংসদে কেন এই জাতীয় স্লোগান দেওয়া যাবে না?

মমতার কড়া প্রশ্ন:

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিতর্ক উস্কে দিলেন। নেতাজির স্লোগান ও স্বাধীনতার মন্ত্রকে সংসদে বলতে না-দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই স্লোগানগুলি ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

তাঁর কথায়:

“কেন বলা যাবে না? জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম—এগুলো আমাদের স্বাধীনতার স্লোগান। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা কেন এগুলো বলব না?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও মনে করিয়ে দেন, “‘বন্দে মাতরম’ আমাদের স্বাধীনতার মন্ত্র। আর ‘জয় হিন্দ’ হলো নেতাজির (সুভাষচন্দ্র বসু) দেওয়া স্লোগান। যে স্লোগান নিয়ে আমরা লড়াই করেছি, এখনও লড়ছি। এটা আমাদের দেশের স্লোগান।”

চ্যালেঞ্জ ও হুঁশিয়ারি:

রাজ্যসভার এই নিয়মকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, আবেগের সঙ্গে সংঘাত বাঞ্ছনীয় নয়। কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন:

“এখনও এটা আমাদের দেশের স্লোগান। এর সঙ্গে যে টক্কর নিতে আসবে, সে চুরমার হয়ে যাবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবং আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলা সর্বদা আমাদের দেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের জন্য লড়াই করে।”

উল্লেখ্য, সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ১৮৭০ সালে রচিত হয় এবং ১৯৫০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়।