দুই দশকের ঠিকানা বদল! নীতীশ সরকারের নির্দেশে পটনার বাংলো ছাড়ার নির্দেশ লালু পরিবারকে

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ফের ক্ষমতায় আসা নীতীশ কুমারের এনডিএ সরকার এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পটনার ১০, সার্কুলার রোডের বাংলোতে বসবাস করা লালুপ্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবারকে সেই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্বাচনের রেশ কাটতে না-কাটতেই এই নির্দেশে বিহারের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।

আরজেডি (RJD) এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ তুলেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন লালু প্রসাদের কন্যা রোহিণী আচার্যও।

বাংলো বরাদ্দ এবং নতুন ঠিকানা

১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাবড়ি দেবী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যাদব পরিবার ১ নম্বর, অ্যানে মার্গের সরকারি বাসভবনে থাকতেন। ২০০৫ সালে নীতীশ কুমার ক্ষমতায় আসার পর তিনি সেই বাংলোতে থাকতে শুরু করেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের বাংলোটি রাবড়ি দেবীর পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিগত ২০ বছরে এই প্রথমবার আরজেডি ক্ষমতায় থাকুক বা না-থাকুক, রাবড়ির পরিবারকে এই বাংলো ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

ভবন নির্মাণ বিভাগের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরনো ঠিকানার বদলে রাবড়ি দেবীর জন্য ৩৯ হার্ডিং রোডের একটি বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। রাবড়ি দেবী বর্তমানে বিহারের বিধান পরিষদের বিরোধী নেত্রী।

রাজনৈতিক তরজা ও কটাক্ষ

দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নীতীশ কুমারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আরজেডি নেতৃত্ব তীব্র সমালোচনা করেছে।

আরজেডি মুখপাত্র শক্তি যাদব: তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে ১ নম্বর অ্যানি মার্গের (নীতীশ কুমারের বাসভবন) উপর বিজেপি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে।”

আরজেডি নেতা ইজাজ আহমেদ: তিনি অভিযোগ করেন, “নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিতে শুরু করেছে এনডিএ সরকার। বিজেপি’র প্রবল চাপের মধ্যে পড়েছে নীতীশ কুমারের সরকার।”

অন্যদিকে, লালু-কন্যা রোহিণী আচার্য ভবন বিভাগের নির্দেশনামার স্ক্রিনশট শেয়ার করে নীতীশ কুমারকে ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলেন, “এটি হলো ‘সুশাসন বাবু’-এর উন্নয়ন মডেল। সরকারের এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো লালুপ্রসাদকে অপমান করা। আপনি তাঁকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারেন। কিন্তু, মানুষের হৃদয় থেকে কীভাবে বের করবেন? তাঁর স্বাস্থ্যের কথা না-হলেও, তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা বিবেচনা করা উচিত ছিল।”

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র নীরাজ কুমার বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী রাবড়ি দেবীর পরিবারকে বাংলো ছাড়তে বলা হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার জন্য তাঁদের উপর কড়া নজর রাখা হবে। সরকারি সম্পত্তির যাতে কোনও ক্ষতি না-হয়, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।” উল্লেখ্য, বিহারের ক্ষমতায় থাকাকালীন ৫ নম্বর দেশরত্ন মার্গের বাংলো থেকে বেশ কিছু জিনিসপত্রের উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে।