কসবার হোটেলে আদর্শ লোসালকা খুন, মূল কারণ এখনও ধোঁয়াশা! ধৃতদের বক্তব্যে অসঙ্গতি, পুলিশি হেফাজতে জেরা

কসবার একটি পাঁচতারা হোটেলের ঘর থেকে বীরভূমের যুবক আদর্শ লোসালকার (Aadarsh Losalka) মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের আসল কারণ নিয়ে এখনও ধন্দে রয়েছে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় ধ্রুব মিত্র ও কমল সাহা নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার হোটেলের ঘর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় আদর্শের দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শুক্রবার রাতে আদর্শের সঙ্গে ধৃত ধ্রুব ও কমল হোটেলে এসেছিল। রাতেই তারা হোটেল ছেড়ে চলে যায়।
পরিকল্পিত খুনের ইঙ্গিত:
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, আদর্শকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে এবং তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। পেটে প্রায় ২০০ গ্রাম আধা-তরল পেস্টের মতো খাবারের সঙ্গে তীব্র অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশের অনুমান, পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে আদর্শকে। এছাড়া, মৃতদেহের পা বাঁধা ছিল। পুলিশ এখন জানতে চাইছে, কেন তাঁকে বিবস্ত্র করে পা বেঁধে ফেলা হয়েছিল।
একদিনের পরিচয় ও লিভ-ইন সম্পর্ক:
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২০ নভেম্বর আদর্শের সঙ্গে কমলের পরিচয় হয়। পরদিনই ধ্রুবকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা হোটেলে আসেন। ধ্রুব মিত্রের সঙ্গে কমল লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। কিন্তু একদিনের পরিচয়ের জেরে এমন নৃশংস খুনের ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়েই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
অসঙ্গতির জেরে ধোঁয়াশা:
আদালত ধৃত দু’জনকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, লাগাতার জেরা সত্ত্বেও খুনের কারণ নিয়ে ধ্রুব ও কমল পরস্পরবিরোধী এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বয়ান দিচ্ছে। খুনে ব্যবহৃত ধাতব বস্তুটিও এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা সেই বস্তুটি হোটেলের বাইরে অন্য কোথাও ফেলে দিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খুনের পিছনে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিবাদ, নাকি আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখছেন। এর জন্য আদর্শ ও ধৃতদের মোবাইলের কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল চ্যাট পরীক্ষা করা হচ্ছে।