SIR ক্যাম্প পুড়িয়ে দিল কারা? তৃণমূল-বিজেপি-র চাপানউতোর, দোষীদের খোঁজে ময়দানে পুলিশ!

নদীয়ার কল্যাণী শহরে SIR (Special Integrated Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি করা একটি ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণী তথা রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতি

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তৃণমূল অভিযোগ করেছে, কল্যাণী টাউনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলের একটি SIR ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করা হয় এবং এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এই কাজটি করেছে বিজেপি সমর্থকরা। আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে ক্যাম্পের ব্যানার, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহায্য পেতে না পারে এবং তারা দিশাহীন হয়ে পড়ে। শাসকদল দাবি করেছে, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলতেই বিজেপি এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দোষীদের খুঁজে বের করতে ময়দানে নেমেছে পুলিশ।

বিজেপি-র পাল্টা দাবি: ‘দলীয় কোন্দল’

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। তাদের পাল্টা দাবি, এই কাণ্ড তৃণমূলের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। নিজেদের দোষ ঢাকতেই গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করছে তৃণমূল।

রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, “বিজেপি-র কী কোনও কাজ নেই? এ সব করতে যাবে কেন? এটা ওদের দলীয় কোন্দলের ফল হতে পারে। প্রচারে থাকার জন্যই বিজেপি-র ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে।”

SIR ক্যাম্পের গুরুত্ব

প্রসঙ্গত, ভোটারদের সুবিধার্থে রাজ্যজুড়ে প্রতিটি ব্লকে ‘ভোটরক্ষা শিবির’ বা SIR ক্যাম্প চালু করেছে তৃণমূল। ভোটাররা তালিকা সংশোধন বা নাম সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা দ্বিধায় পড়লে এই শিবিরগুলিতে এসে পরামর্শ নিতে পারেন। শাসকদলের দাবি, ভোটাররা যাতে কোনওভাবে দিশাহীন না হয়ে পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।