কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত পাত্র চাই! সৃজিতের পর এবার রুক্মিণী, অভিনব প্রচার কৌশল নিয়ে ফের আলোচনায় টলিউড

ছুটির দিনে সন্ধ্যার ফাঁকা রাস্তা। কিন্তু হঠাৎ রুবির মোড়ের এক চায়ের দোকানে লাগানো একটি সাদাকালো পোস্টারে চোখ আটকে গেল পথচলতি মানুষের। পোস্টারে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘পাত্র চাই’, সঙ্গে পাত্রীর বিস্তৃত বিবরণ। কিন্তু পাত্রী? এ কী! এ যে খোদ অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র!
পোস্টারে দাবি, পাত্রীকে অবশ্যই হতে হবে কলকাতা নিবাসী, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। দেবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও রুক্মিণীর এই ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই তাজ্জব বনে যান। কেউ কেউ কৌতূহলী হয়ে ফোন খুলে শুরু করে দেন ‘রুক্মিণীর বিয়ে কবে’ বলে সার্চ। আর ঠিক এইখানেই চুপিসারে মাস্টারস্ট্রোক খেলেন রুক্মিণী এবং তাঁর ছবির বাণিজ্যিক টিম।
রহস্যের পর্দা ফাঁস: ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর প্রচার
আসলে এটি রুক্মিণী অভিনীত নতুন ছবি ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর প্রচার কৌশল। এই ছবিতে রুক্মিণীর অনস্ক্রিন বাবা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (চরিত্রের নাম দীপক চক্রবর্তী) মেয়ের জন্য পাত্র জোটাতে মরিয়া। বাবার সেই মরিয়া ভাবই শহরের দেয়ালে দেয়ালে এখন পোস্টার রূপে জায়গা করে নিয়েছে। এই পোস্টারের মালিকও ছবিতে তাঁর বাবা, দীপক চক্রবর্তী।
পরিচালক অর্ণব মিদ্যা-র এই ছবিটি বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে তৈরি। যদিও অনেকেই এই কনসেপ্টের সঙ্গে জনপ্রিয় ছবি ‘পিকু’-র মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তবুও বাংলা ছবিতে এই ধরনের বিষয়বস্তু খুব একটা আসেনি বলে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অঞ্জনা বসুকে।
‘হটকে’ প্রচারে দশে দশ
বাংলা ছবিতে অভিনব প্রচার নতুন নয়। এর আগে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘কিলবিল সোসাইটি’ মুক্তির আগেও এমন পোস্টার পড়েছিল। তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগে ভুল থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর টিম এক্ষেত্রে বাজিমাত করেছে।
পথচলতি মানুষের থমকে দাঁড়ানো এবং রুক্মিণীর বিয়ের খবর জানতে উৎসুক হয়ে ওঠা—এই সবটাই প্রমাণ করে দিয়েছে প্রচার কৌশলটি ‘দশে দশ’ সফল। বাণিজ্যিক টিমের ‘স্পাইস’ আনার এই মরিয়া চেষ্টা শহরের আলোচনায় এখন তুঙ্গে।
পরিচালক অর্ণব মিদ্যা-র এই ছবিটি আগামী ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। রুক্মিণীর এই ‘পাত্র চাই’ ক্যাম্পেইন কতটা সাফল্য আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।