হঠাৎ কেন চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক কাঠামো বদল? মোদী সরকারের ‘১৩১তম সংবিধান সংশোধনী’ বিলের আসল উদ্দেশ্য ফাঁস!

আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী সরকার এবার এক ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে। সেই পদক্ষেপের স্পষ্ট বার্তা মিলেছে লোকসভা সচিবালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে। কেন্দ্র ভারতীয় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল আনতে চলেছে, যা পাস হলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ের প্রশাসনে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা কাঠামোগত সংশোধন অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল চণ্ডীগড়ের প্রশাসনকে অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে একীভূত করা।
🏛️ ২৪০ অনুচ্ছেদের আওতায় চণ্ডীগড়: কী বদল আসছে?
কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০-এর অধীনে চণ্ডীগড়কে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই লক্ষ্যেই সংসদে বিলটি পেশ করা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যৌথ রাজধানী চণ্ডীগড়ের প্রশাসন পাঞ্জাবের রাজ্যপালের দ্বারা পরিচালিত হয়। স্বাধীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (UT) হয়েও এর শাসন কাঠামো অন্যান্য UT-এর মতো নয়, যা দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত।
পরিবর্তন: বিলটি পাস হলে চণ্ডীগড় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষাদ্বীপ, দমন ও দিউ এবং পুদুচেরির মতো অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সমতুল্য হবে।
প্রশাসক নিয়োগ: সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, বিলটি পাস হলে চণ্ডীগড়ে রাজ্যপালের পরিবর্তে অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মতো একজন স্বাধীন প্রশাসক (Administrator) নিযুক্ত হবেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত কার্যকরী এবং লক্ষ্যনির্ভর হবে। বর্তমানে পাঞ্জাব রাজ্যপাল একই সঙ্গে পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলান, যা বহু নীতিগত সিদ্ধান্তে জটিলতা তৈরি করে। সংশোধনী বিল পাস হলে প্রশাসনিক তদারকি, দফতর এবং নীতি প্রয়োগ আরও কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
🚨 ‘চণ্ডীগড় ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র’: ক্ষোভে ফুঁসছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী
মোদী সরকারের এই প্রস্তাবকে ‘ভয়াবহ অবিচার’ বলে অভিহিত করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন যে, তারা পাঞ্জাবের রাজধানী চণ্ডীগড় ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
মান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, চণ্ডীগড় “পাঞ্জাবের, ছিল এবং চিরকাল থাকবে” এবং রাজ্য এই সংশোধনী পাস হতে দেবে না।
তিনি আরও দাবি করেছেন, পাঞ্জাব, পিতৃস্থান হিসেবে, একমাত্র তার রাজধানীর অধিকারী এবং বারবার কেন্দ্রের অবিচারের শিকার হয়েছে।
চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনে বিলটি পেশ হলে কেন্দ্র এবং পাঞ্জাব সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।