কলকাতা মেট্রো ব্লু লাইনে এবার আন্তর্জাতিক মানের কুলিং সিস্টেম, গরম থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা বাড়াতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন

কলকাতা মেট্রোর ব্যস্ততম করিডোর ব্লু লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে দক্ষিণেশ্বর) যাত্রার দিন শেষ হতে চলেছে। এবার প্রথমবারের মতো এই করিডোরের পুরনো পরিকাঠামোতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসছে। মেট্রোর ভূগর্ভস্থ স্টেশন এবং টানেলগুলিতে অত্যাধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন এবং স্টেশন কুলিং সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে যাত্রীদের জন্য শীতল, আরামদায়ক এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত হবে।
AC ট্রেনের জন্য প্রয়োজন আধুনিকীকরণ
আগে যখন ব্লু লাইনে নন-এসি রেক চলত, তখন স্বাভাবিক বায়ু চলাচলই টানেল ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করত। কিন্তু বর্তমানে সমস্ত রেক সম্পূর্ণরূপে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পুরো টানেল ব্যবস্থাকেই উন্নত প্রযুক্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে:
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ,
টাটকা বাতাস চলাচল, এবং
আগুন লাগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোঁয়া নিষ্কাশন সম্ভব হবে।
২৫০°C সহনশীল নতুন ফ্যান ও নিরাপত্তা
ব্লু লাইনের ভূগর্ভস্থ টানেলগুলিতে বর্তমানে ব্যবহৃত ১১০ কিলোওয়াট সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যানগুলিকে আধুনিক দিকনির্দেশক অক্ষীয় ফ্যান দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এই নতুন ফ্যানগুলির বিশেষত্ব হলো:
এটি ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম বাতাস পরিচালনা করতে পারে।
ধোঁয়া, তাপমাত্রা বা CO₂-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই ফ্যানগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে, যা অগ্নি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পরিবর্তন
মেট্রো রেল জানিয়েছে যে ব্লু লাইন বরাবর ট্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কুলিং সিস্টেমের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে মোট সাতটি নতুন ট্র্যাকশন সাব-স্টেশন তৈরি করা হবে।
নতুন সাব-স্টেশন: কালীঘাট, নেতাজি ভবন, ময়দান, এসপ্ল্যানেড, এম.জি. রোড-এ এই আধুনিক সাব-স্টেশনগুলি তৈরি হবে।
এছাড়া, চাহিদা বৃদ্ধি এবং অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে চাঁদনী চক এবং গীতাঞ্জলি স্টেশনে আরও দুটি সাব-স্টেশন তৈরি করা হবে।
প্রকল্পে জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার
এই আধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম এবং স্টেশন কুলিং-এর দায়িত্ব পেয়েছে একটি জাপানি কোম্পানির ভারতীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সিঙ্গাপুর মেট্রোর ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলিতে একই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কলকাতা মেট্রোর জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রকল্পটি শেষ হলে গ্রীষ্মকালে যাত্রীদের আর অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ট্রেন এবং স্টেশনের তাপমাত্রা প্রায় সমান হবে। পাশাপাশি অগ্নি নিরাপত্তা, ধোঁয়া নিষ্কাশন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের মানও বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।