পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে বাড়ছে যে রোগ? সতর্ক করলো বিজ্ঞানীরা

শিফটের কাজের ধরণ এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ঘুমের সমস্যা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু জানেন কি, এর ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি ভয়ংকরভাবে বাড়ছে? সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটির একটি সমীক্ষায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

🔍 কী বলছে গবেষণা?
💠 নাইট শিফটে কাজ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে ২৫-৩০%
💠 ১৮-৪০ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যানসারের হার বেড়েছে ৬০%
💠 পুরুষ ও মহিলাদের ফুসফুসের ক্যানসারের সম্ভাবনা ৩৩%
💠 কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭০%
💠 অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে মৃত্যুহার ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে

ঘুম কম হলে শরীরে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা শরীরের কোষগুলির ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের জন্ম দেয়। বিশেষত, যাঁরা নাইট শিফটে কাজ করেন বা দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুম পান না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

💬 বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
নিদ্রা বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌরভ দাস জানাচ্ছেন –
🩺 “শরীরে নতুন কোষ জন্মায় এবং পুরোনো কোষ মারা যায়। কিন্তু ক্যানসার হলে পুরোনো কোষ ধ্বংস হয় না, বরং জমতে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, শরীরে বেশি পরিমাণে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি হয় এবং তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে।”

এছাড়া ডাঃ উত্তম আগরওয়াল বলেন –
🩺 “ঘুমের অভাব ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়।”

💡 কীভাবে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
✅ নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন – দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
✅ শিফটিং-এর ধরন স্থির করুন – যদি শিফট বদলাতেই হয়, তাহলে প্রতি ৭-১৫ দিন অন্তর শিফট পরিবর্তন করুন, যেন শরীর অভ্যস্ত হতে পারে।
✅ দিনের বেলায় ঘুমের সুযোগ নিন – যদি রাতের শিফট করেন, তাহলে দিনে নির্দিষ্ট সময় ঘুমান এবং পরিবেশ ঘুমের উপযোগী রাখুন।
✅ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন – পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার ও জল পান করুন, যাতে শরীরের কোষ মেরামত হয়।
✅ ঘুমের ব্যাঘাত এড়িয়ে চলুন – গ্যাপ দিয়ে ঘুমালে কোনো লাভ নেই, একটানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
✅ অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা করান – যদি ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

🚨 সতর্কতা:
ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তির কারণই নয়, এটি ধীরে ধীরে আপনার স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই এখনই সতর্ক হন এবং আপনার ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আনুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy